Image description

ফেব্রুয়ারির শেষদিকে শুরু হয় ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ। এ যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে অপরিশোধিত তেলের দাম। হরমুজ প্রণালি অবরোধের জেরে, তেলের দাম ঠেকে ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারে, যা এ-বছরের সর্বোচ্চ ।

সম্প্রতি লেবাননের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনার আশায়, কমতে শুরু করেছে এ দাম। শুক্রবার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের তেলের দাম নেমে আসে ব্যারেল প্রতি ৮০ দশমিক ৮৪ ডলারে, যা এ-মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

যদিও ৭ এপ্রিল এ তেলের দাম ছিল ১১২ দশমিক ৯৫ ডলার, যা এ-মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। অথচ একই তেলের দাম ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ছিল ৬৭ ডলারের আশেপাশে।

এছাড়াও আজ অপরিশোধিত তেলের সর্বনিম্ন দাম ছিলো ৮৮ দশমিক ৮৩ ডলার, যা এ-মাসে সর্বোচ্চ উঠেছিল ১০৯ দশমিক ৭৭ ডলার। যা যুদ্ধের আগে ছিলো ৭২ দশমিক ৮৭ ডলার।   

প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে মার্চ মাসে হরমুজ প্রণালি অবরোধ করেছে ইরান। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়েই যায়। আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলত, এখন কমে গেছে সেই সংখ্যা। এমনকি যুদ্ধবিরতি চললেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, প্রণালি পার হতে লাগবে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)-এর অনুমতি, এমনটাই জানিয়েছেন ইরানের উচ্চপদস্থ এক সামরিক কর্মকর্তা।

যদিও এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছিলেন, লেবাননের যুদ্ধবিরতির মধ্যে হরমুজ প্রণালি থাকবে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। এদিকে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরে অবরোধ বজায় রাখবে ওয়াশিংটন, এ হুমকিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্যের পরও, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য সুসংবাদ বয়ে আনছে তেলের দরপতন, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।