নাটোরের বড়াইগ্রামে নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিডে প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল ডাকাতির ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের ১৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার এম এ ওয়াহাব এ তথ্য জানান। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া ১ কোটি ১৩ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের ব্যাটারি সেল এবং ডাকাতিতে ব্যবহৃত ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মোহাম্মদ রোকন মোল্লা (৩২), রুহুল আমিন (৩৮), তসলিম প্রামানিক (৪৮), আব্দুস সালাম (৩৫), শিহাব উদ্দিন (২৬), হযরত আলী ওরফে মন্টু মোল্লা (৪৬), বাসেত মন্ডল (৩৭), সৈকত (২৫), উজ্জ্বল মোড়ল (৫০), জাহাঙ্গীর আলম (৩৯), হারুনুর রশিদ (৪০), নায়েব আলী (৪৫) এবং সাইফুল ইসলাম (৪২)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় বড়াইগ্রামের কাছুটিয়া এলাকায় নির্মাণাধীন ১৩২/১৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রে হানা দেয় ডাকাত দল। ২৬ মার্চ রাত পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করে ধারালো অস্ত্র ও কাটার মেশিন দিয়ে কেন্দ্রের নিরাপত্তা ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করে। ডাকাত দল প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট করে ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দল তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় নাটোর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা ও গাজীপুর জেলায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অবশেষে গাজীপুরের শ্রীপুর থানার একটি গভীর জঙ্গল থেকে ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
আরও জানা গেছে, এই ডাকাতিতে দুটি দল অংশ নেয়। একটি দলের নেতৃত্বে ছিল রুহুল আমিন এবং অন্যটির নেতৃত্বে সৈকত। তারা গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হয় এবং সেখানেই ডাকাতির এই ছক কষে।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ পর্যন্ত ১ কোটি ১৩ লাখ ১৮ হাজার টাকা মূল্যের ৩৫০টি ব্যাটারি সেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক ও ১০টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার এম এ ওয়াহাব বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং লুট হওয়া বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।