Image description

বিদ্যুতের ‘মিসড কল’ যুগ

বর্তমান বাংলাদেশে বিদ্যুতের অবস্থা অনেকটা পাড়া-মহল্লার সেইসব বখাটে ছেলেদের মতো, যারা গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে সুন্দরী মেয়েদের দেখে শিস বাজিয়েই ভোঁ দৌড় দেয়। ধরতে গেলে পাওয়া যায় না, কিন্তু অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়। অথবা বলা যায়, বিদ্যুৎ এখন অনেকটা সেলুলার নেটওয়ার্কের ‘মিসড কল’-এর মতো।

 

প্রচণ্ড গরমে আপনি যখন ঘামতে ঘামতে একেবারে সিদ্ধ আলু হয়ে গেছেন, তখন হঠাৎ সিলিং ফ্যানটা ‘ক্যাঁচ’ করে এক ইঞ্চি ঘুরে আবার থেমে যায়। আপনি আনন্দে লাফিয়ে উঠে চিৎকার করেন, ‘কারেন্ট আসছে!’ কিন্তু পরক্ষণেই বোঝেন, ওটা আসলে কারেন্ট আসেনি, আপনাকে শুধু একটা ‘মিসড কল’ দিয়ে গেল। জানান দিয়ে গেল যে, ‘আমি আছি, কিন্তু তোমার জন্য নেই!’

 

বিদ্যুত সংকটের সার্বিক অবস্থা নিয়ে ‘যেদিন কম সেদিন সাত ঘণ্টা, কোনো দিন আবার ১০ ঘণ্টারও বেশি হয় লোডশেডিং’ শিরোনামে একটি সংবাদও প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

 

সারা দেশে এখন এই ‘মিসড কল’ বিদ্যুতের কারণে চুরি ব্যাপক বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে অনেকে বিক্ষোভ করার জন্য হারিকেন বা হাতপাখা হাতে নিয়ে প্ল্যাকার্ড বানানোর প্র্যাকটিস করছে। যেহেতু বিদ্যুৎ নেই, তাই ডিজিটাল ব্যানারের বদলে এখন কাঠকয়লা দিয়ে পুরোনো ক্যালেন্ডারের উল্টো পিঠে স্লোগান লেখা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই গরমে জনগণকে পুদিনা পাতার শরবত খাওয়া এবং অন্ধকারে বসে রোমান্টিক ‘ক্যান্ডেল লাইট ডিনার’ করার পরামর্শ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। কিন্তু জনগণ রোমান্টিসিজমের চেয়ে ফ্যানের বাতাসকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়ায় পরিস্থিতি বেশ ঘোলাটে।

 

বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও চুরির শঙ্কা
জ্বালানি সংকটের কারণে দেশে কয়লা, গ্যাস বা তেলের চরম অভাব। ফলে দিনে দিনে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক মেগা, আল্ট্রা-সুপার-ক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। হাজার হাজার কোটি টাকার টারবাইন, বয়লার আর জেনারেটরগুলো এখন নিস্তব্ধ। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দেখলেই বোঝা যাচ্ছে এগুলোতে এখন ‘কারেন্ট’ নামক কোনো এক জাদুকরি বস্তুর উৎপাদন হচ্ছে না।

 

কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে অন্য জায়গায়। এই বিশালাকার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পাহারা দেওয়া এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেহেতু কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ নেই, তাই রাতে এগুলো রীতিমতো ভূতুড়ে আকার ধারণ করে। আর এই অন্ধকারের সুযোগ নিতে পারে এলাকার পেশাদার চোরেরা।

 

তারা অন্ধকারে এসে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরের তামার তার, জেনারেটরের নাট-বল্টু, এমনকি অফিসের বাথরুমের বদনা পর্যন্ত খুলে নিয়ে যেতে পারে। গত সপ্তাহে এক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ডিরেক্টরের শখের রিভলভিং চেয়ার চুরি হয়ে গেছে। চোরেরা এতটাই বেপরোয়া যে, অন্ধকারে ভারী ট্রান্সফরমার চুরি করতে না পেরে তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরেই ‘স্ক্র্যাপ মেটাল’ বা ভাঙাড়ির দোকান খুলে বসতে পারে! এজন্য এখনই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

 

ঘুটঘুটে অন্ধকারে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
অবস্থা বেগতিক দেখে ‘জাতীয় বিদ্যুৎ উধাও বোর্ড’-এর প্রধান কার্যালয়ে এক জরুরি বৈঠকের ডাক দেওয়া হলো। সময় রাত ৮টা। স্বভাবতই বোর্ডে কোনো বিদ্যুৎ নেই। আইপিএসের ব্যাটারিও দুদিন আগে চার্জের অভাবে মারা গেছে।

 

বোর্ডের মহাপরিচালক (ডিজি) ‘বজ্রকণ্ঠ’ বড়ুয়া সাহেব অন্ধকারে বসে কয়েক হাজার কোটি টাকার একটি টেন্ডারের ফাইল দিয়ে নিজেকে বাতাস করছেন। তার সামনে বসে আছেন প্রধান প্রকৌশলী ‘মি. শর্টসার্কিট’ এবং প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা জনাব ‘অন্ধকার আলী’ আলী। পুরো রুম আলোকিত হয়ে আছে ডিজি সাহেবের পুরোনো নকিয়া ফোনের নিভু নিভু ফ্ল্যাশলাইটে।

 

ডিজি বজ্রকণ্ঠ বড়ুয়া ঘাম মুছতে মুছতে বললেন, ‘ভদ্রমহোদয়গণ, আমাদের অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ। জ্বালানি নেই, তাই কারেন্টও নেই। কিন্তু চোর তো আর বসে নেই! তারা তো ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করছে। গতকাল খবর পেলাম, আমাদের একটি প্ল্যান্টের মেইন গেটটাই নাকি চুরি হয়ে গেছে! আপনারা করছেনটা কী?’

 

নিরাপত্তা কর্মকর্তা অন্ধকার আলী কাঁচুমাচু হয়ে বললেন, ‘স্যার, গেট চুরি যাওয়ার সময় তো ঘুটঘুটে অন্ধকার ছিল। আমাদের সিকিউরিটি গার্ডরা চোখে কিছুই দেখতে পায়নি। তারা ভেবেছিল বাতাসে হয়তো গেট নড়ছে।’

 

ডিজি সাহেব রেগে গিয়ে বললেন, ‘তাহলে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো কী করছিল? ওগুলো কি শুধু শুধু লাগিয়েছি?’

 

প্রধান প্রকৌশলী শর্টসার্কিট গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন, ‘স্যার, সিসিটিভি তো কারেন্টে চলে। কারেন্ট না থাকলে ওগুলো তো প্লাস্টিকের খেলনা ছাড়া আর কিছুই নয়। আর আইপিএস দিয়ে চালাবো, সেই আইপিএস চার্জ দেওয়ার জন্যও তো কারেন্ট লাগে!’

 

ডিজি হতাশ হয়ে বললেন, ‘তাহলে উপায়? আমরা কি চোরদের হাতে সব ছেড়ে দেব? আমাদের এই বিলিয়ন ডলারের সম্পদ রক্ষার কি কোনো উপায় নেই?’

 

‘দ্য হারিকেন থিওরি’
রুমের ভেতর পিনপতন নীরবতা। শুধু মশার ভনভন শব্দ আর ডিজি সাহেবের ফাইলে থাপ্পড় দিয়ে মশা মারার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। হঠাৎ নিরাপত্তা কর্মকর্তা অন্ধকার আলী লাফিয়ে উঠলেন।

 

‘স্যার! পেয়েছি! ইউরেকা!’

 

ডিজি চমকে উঠে বললেন, ‘কী পেয়েছেন? কারেন্ট?’

 

‘না স্যার, কারেন্ট না, বুদ্ধি পেয়েছি! আমাদের শেকড়ে ফিরে যেতে হবে। আমাদের ঐতিহ্যের কাছে ফিরে যেতে হবে। সিসিটিভি, ফ্লাডলাইট, আইপিএস—এসব পশ্চিমা প্রযুক্তি আমাদের ধোঁকা দিয়েছে। আমাদের এখন একমাত্র ভরসা... হ্যারিকেন!’

 

ডিজি এবং প্রধান প্রকৌশলী দুজনেই অবাক হয়ে তাকালেন।

 

অন্ধকার আলী ব্যাখ্যা করতে শুরু করলেন, ‘স্যার, ভেবে দেখুন। হারিকেনের কোনো ব্যাটারি লাগে না, কোনো চার্জ লাগে না। শুধু একটু কেরোসিন আর একটা দেশলাই! আমাদের গার্ডদের হাতে যদি একটা করে হারিকেন ধরিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে তারা পুরো বিদ্যুৎকেন্দ্র চষে বেড়াতে পারবে। হারিকেনের লালচে আলোতে গার্ডদের দেখলে চোরেরা দূর থেকে ভাববে, বিদ্যুৎকেন্দ্রে জিন-ভূত ঘুরে বেড়াচ্ছে। একে তো আলো, তার ওপর ভূতের ভয়—টু ইন ওয়ান সিকিউরিটি! চোর ধারেকাছেও ঘেঁষবে না!’

 

প্রধান প্রকৌশলীও সায় দিলেন, ‘স্যার, আইডিয়াটা কিন্তু মাস্টারপিস। তাছাড়া হারিকেন কিনলে পরিবেশবাদীরাও খুশি হবে। জিরো কার্বন... মানে, জিরো ইলেকট্রিসিটি ফুটপ্রিন্ট!’

 

ডিজি বজ্রকণ্ঠ বড়ুয়ার মুখে অন্ধকারেও এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। তিনি টেবিল চাপড়ে বললেন, ‘ব্রিলিয়ান্ট! কাল সকালেই মন্ত্রণালয়ের কাছে আমরা ১০ হাজার হারিকেন কেনার প্রস্তাব পাঠাবো। সঙ্গে আনুষঙ্গিক খরচের একটা স্পেশাল বাজেটও তৈরি করুন।’

 

মন্ত্রণালয়ের কাছে পেশ করা ঐতিহাসিক আবেদনপত্র
পরদিন সকালে ড্রাফটম্যানকে দিয়ে চরম গোপনীয়তায় একটি প্রস্তাবনা তৈরি করা হলো। প্রস্তাবনার শিরোনাম দেওয়া হলো: ‘জ্বালানি সংকটে উৎপাদন বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রসমূহের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ‘স্মার্ট’ হারিকেন ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি ক্রয় প্রকল্প।’

 

মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লেখা চিঠির বয়ান ছিল নিম্নরূপ:

 

‘মহোদয়,
সবিনয় নিবেদন এই যে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে আমাদের অতি আদরের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বর্তমানে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। কিন্তু এই সুযোগে একদল দেশি ও আন্তর্জাতিক চোর সিন্ডিকেট আমাদের মূল্যবান টারবাইন, তার, এবং অফিসের আসবাবপত্র চুরির মহোৎসবে মেতে উঠেছে। যেহেতু বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ নেই, সেহেতু আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা (যেমন—সিসিটিভি, সেন্সর অ্যালার্ম) সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায়, জাতীয় সম্পদ রক্ষার্থে আমাদের আদি, অকৃত্রিম ও নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি ‘হারিকেন’-এর শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই।

 

অতএব, দেশের সকল বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাহারাদারদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১০,০০০ (দশ হাজার) পিস ‘স্মার্ট ও ট্যাকটিক্যাল হারিকেন’ এবং এর আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি ক্রয়ের জন্য নিম্নলিখিত বাজেট অনুমোদনের বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।’

 

হারিকেন প্রকল্পের বাজেট
সরকারি বাজেট বলে কথা, সাধারণ হারিকেন তো আর সাধারণ দামে কেনা যাবে না! তাই বাজেটের ফর্দটা বেশ যত্ন নিয়েই বানানো হলো:

 

১. ১০,০০০ পিস ‘স্মার্ট’ ট্যাকটিক্যাল হারিকেন (আমদানিকৃত): প্রতিটি হারিকেনের মূল্য ধরা হলো ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
যৌক্তিকতা: এগুলো সাধারণ হারিকেন নয়। এগুলো হবে ‘অ্যারোডাইনামিক’ ডিজাইনের, যাতে কালবৈশাখী ঝড়েও আলো না নেভে। এর কাচ হবে বুলেটপ্রুফ (যদি চোর ঢিল মারে)। তাছাড়া এই হারিকেনে একটি ‘ইউএসবি পোর্ট’ সংযুক্ত থাকবে। (যদিও বিদ্যুৎ নেই, তবুও ২০৪০ সালের মধ্যে কখনো যদি কারেন্ট আসে, তবে এই পোর্ট দিয়ে মোবাইল চার্জ করা যাবে—এই হলো ভবিষ্যৎদর্শী পরিকল্পনা)।

 

২. ভিআইপি অ্যাভিয়েশন-গ্রেড কেরোসিন (১ লাখ লিটার): প্রতি লিটার কেরোসিনের মূল্য ধরা হলো ২ হাজার টাকা।
যৌক্তিকতা: সাধারণ কেরোসিনে ধোঁয়া বেশি হয়, যা গার্ডদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই বিমানের জ্বালানি সমতুল্য পরিশোধিত ‘পারফিউমড কেরোসিন’ আমদানি করা হবে, যা পুড়লে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গোলাপ ও রজনীগন্ধার সুবাস ছড়িয়ে পড়বে। চোরেরা চুরি করতে এসে সুগন্ধে ঘুমিয়ে পড়বে।

 

৩. সুইডিশ সেফটি দেশলাই (৫০ হাজার বাক্স): প্রতি বক্স ৫০০০ টাকা।
যৌক্তিকতা: সাধারণ দেশলাইয়ের কাঠি জ্বালাতে গিয়ে বারুদ ছিটকে গার্ডদের আঙুল পুড়ে যেতে পারে। তাই সরাসরি সুইডেন থেকে উন্নত প্রযুক্তির ঘর্ষণ-প্রতিরোধী দেশলাই আনা হবে।

 

৪. হারিকেনের সলতে বা ফিতা (১ হাজার কিলোমিটার): যৌক্তিকতা: হারিকেন নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালাতে উন্নতমানের ফায়ারপ্রুফ সলতে লাগবে, যা সহজে পুড়বে না (কীভাবে পুড়বে না, তা বিজ্ঞানের এক অজানা রহস্য)।

 

৫. বিদেশি প্রশিক্ষণ (ক্যাপাসিটি বিল্ডিং): বাজেট: ৫০ কোটি টাকা।
যৌক্তিকতা: হারিকেন একটি জটিল ম্যানুয়াল যন্ত্র। এর সলতে কতটুকু উঁচুতে রাখলে সঠিক আলো পাওয়া যায়, কাচ কালো হয়ে গেলে কীভাবে খবরের কাগজ দিয়ে মুছতে হয় এবং দেশলাইয়ের কাঠি একবারে কীভাবে জ্বালাতে হয়—এসব বিষয়ে উচ্চতর জ্ঞান লাভের জন্য ১০০ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার একটি প্রতিনিধি দল সুইজারল্যান্ড, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ দিনের ‘হ্যারিকেন ম্যানেজমেন্ট কোর্স’-এ অংশগ্রহণ করবেন।

 

৬. ১০ হাজার ‘হ্যারিকেন অপারেটর’ নিয়োগ:
পাহারাদারদের পক্ষে একা হারিকেন ধরা এবং লাঠি ঘোরানো সম্ভব নয়। তাই তাদের পেছনে শুধু হারিকেন ধরে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য ১০ হাজার নতুন লোকবল নিয়োগ দেওয়া হবে।

 

এক চিলতে আলোর অপেক্ষা
মন্ত্রণালয়ে এই ফাইল যাওয়ার পর কী হলো, তা এখনও এক রহস্য। তবে শোনা যাচ্ছে, খোদ মন্ত্রণালয়ের বাতিই নাকি গত তিন দিন ধরে বন্ধ। ফ্যান না ঘোরায় সচিব সাহেব নিজেই হাতপাখা দিয়ে বাতাস খাচ্ছেন আর অন্ধকারে ফাইল খুঁজছেন।

 

এদিকে মিসড কল দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের অপেক্ষায় পুরো জাতি অন্ধকারে বসেই ঘামতে থাকুক। কারণ, কথায় আছে না—অন্ধকারই তো আলোর সত্যিকারের কদর বোঝায়! শুধু এই কদর বুঝতে গিয়ে যে জনগণের পিঠের চামড়া গরমে পুড়ে আর মশার কামড়ে ফুলে একাকার হয়ে যাচ্ছে, সেদিকে তাকানোর সময় আপাতত কারো নেই। সবাই এখন হারিকেন প্রকল্পের টেন্ডার বাগানোর স্বপ্নে বিভোর।