Image description

বরগুনায় তিন শিক্ষকের মধ্যে মারামারির একটি ঘটনার ভিডিও চিত্র ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে জেলাজুড়ে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বরগুনা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী বরগুনা দারুল উলুম নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষিকা রাহিমা বেগম মিলে মারধর করছেন পাথরঘাটা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোসা. তাজেনুরকে। মারধরের শিকার তাজেনুর জাহাঙ্গীর আলমের শ্যালক মিজানুর রহমান মানিকের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বরগুনা পৌর শহরের হাচন মোল্লা সড়কে যৌথভাবে ১২ শতক জমি কিনে ভবন নির্মাণ করেছেন জাহাঙ্গীর আলম ও তার শ্যালক মিজানুর রহমান মানিক। ভবন নির্মাণ করার পর চলাচলের পথ নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল তাদের মধ্যে। এই দ্বন্দ্ব নিরসনে একাধিক বৈঠকও হয়েছে স্থানীয়দের নিয়ে। 

মিজানুর রহমান মানিক জানিয়েছেন, গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে ভবনের নিজের অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গেলে তাকে বাধা দেন জাহাঙ্গীর আলম। এক পর্যায়ে তিনি ভবনের ভেতরে গেলে গেটে তালা লাগিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করেন জাহাঙ্গীর।

তার ভাষ্য, ‘এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন আমার স্ত্রী তাজেনুর। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী রাহিমা বেগম তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন এবং ভেঙে ফেলেন তার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি।’ এ ঘটনায় বিচার দাবি করেছেন মো. মিজানুর রহমান মানিক। 

অপরদিকে জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, ‘তাজেনুর প্রথমে তাকে থাপ্পড় দেন এবং পরে তার স্ত্রীর চুল ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করেন।’ তার ভাষ্য, ‘আমি তাদের মারামারি থামাতে গিয়ে চুল ধরে সরিয়ে দেই তাজেনুরকে। তবে তার গায়ে হাত দেওয়া উচিত হয়নি আমার।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বরগুনা সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মো. মুস্তাফিজুর রহমান লিটন বলেছেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষকদের মারামারির ঘটনা দেখে আমি বিস্মিত। আমরা প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করতে পারিনি বলেই ঘটেছে এ ঘটনা। এটি নিন্দনীয়। এ ঘটনায় শিক্ষক সমাজ লজ্জিত।’

‘এটি তাদের পারিবারিক দ্বন্দ্বের ঘটনা হলেও একজন শিক্ষকের এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য। ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে শিক্ষা প্রশাসন,’ বলছিলেন বরগুনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. শিরিন আক্তার।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেছেন, ‘শিক্ষকদের মারামারির ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেছে একটি পক্ষ। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।’