Image description

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ইছামতি নদী থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা বৃদ্ধের লাশের পরিচয় মিলেছে। পুলিশ জানায়, লাশের সঙ্গে থাকা কাগজপত্রের ভিত্তিতে তার বাড়ি গোপালগঞ্জে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে সীমান্তের পলিয়ানপুর এলাকায় নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে, গত ১৩ এপ্রিল একই এলাকায় নদীর পাড় থেকে আরেকটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

 

নিহত রতি জয়ধর (৬৫) গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের পোলাটানা গ্রামের দিবেন্দ্র জয়ধরের ছেলে।

 

পুলিশ ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয়রা নদীর পাড়ে দুর্গন্ধ পেয়ে মরদেহের সন্ধান পান। পরে কচুরিপানার নিচে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে তারা পুলিশ ও বিজিবিকে খবর দেন। পরে বিজিবির সহযোগিতায় মহেশপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহের সঙ্গে থাকা কাগজপত্র দেখে তার বাড়ি গোপালগঞ্জ বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বুধবার নিজ বসতবাড়ি ও জমিজমা বিক্রি করে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন রতি জয়ধর। পরদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সীমান্তবর্তী ইছামতি নদী থেকে তার গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

পোলাটানার স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন বাইন এশিয়া পোস্টকে জানান, রতি জয়ধরের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছে। তিনিও সম্প্রতি সব সম্পত্তি বিক্রি করে সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরে শুনলাম সীমান্তে গুলিবিদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

 

এ বিষয়ে কোটালীপাড়া থানার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মরদেহ গোপালগঞ্জে পৌঁছায়নি। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

 

মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, মরদেহটি বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ১০ গজ ভেতরে পাওয়া গেছে। মরদেহের সঙ্গে থাকা কাগজপত্র থেকে জানা যায়, তার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলায়। তবে কে বা কারা গুলি করেছে তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে জানা যাবে।

 

এ বিষয়ে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম বলেন, মরদেহটি কচুরিপানার নিচে ভাসমান অবস্থায় ছিল এবং ধারণা করা হচ্ছে এটি কয়েক দিন আগের মরদেহ। পানিতে থাকার কারণে মরদেহটি ফুলে গেছে।