বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোট নিয়ে দেশে প্রতারণা ও ধোকাবাজির রাজনীতি চলছে। আমরা এই অপরাজনীতিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর ‘জেলা ও মহানগরী আমির সম্মেলনে’ উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় জুলাই বিপ্লবের পর একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল। তাদের দায়িত্ব ছিল একটি স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দেয়া, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘অধ্যাপক ইউনূস যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছিলেন। আমরা তখনই প্রতিবাদ করেছিলাম যে, বিদেশের মাটিতে কেন দেশের নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হবে? এতে প্রমাণ হয়, একটি বিশেষ সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল আগেই ঠিক করা হয়েছিল।’
গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করা চরম লজ্জাজনক
নির্বাচনের দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ‘৬৮ শতাংশের বেশি জনগণ ভোট গণভোটে “হ্যাঁ” সূচক রায় দিয়েছে। কিন্তু সরকার সেই রায়কে অগ্রাহ্য করছে। বিশ্বের ইতিহাসে কোথাও রেফারেন্ডাম এভাবে বৃথা যায়নি। এটি জনগণের সঙ্গে চরম প্রতারণা।’
বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, সংসদ অধিবেশন ডাকতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অধিবেশনের প্রথম দিকে ১৩৩টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ উত্থাপিত হলেও সরকার সেগুলো নিয়ে আলোচনা করতে চায়নি। বিশেষ করে দুদক, পুলিশ সংস্কার, গুম কমিশন ও ব্যাংক সংস্কার সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার এড়িয়ে যাচ্ছে। তারা ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালাতে চাচ্ছে বলেই এই সংস্কারগুলো পাস করছে না।’
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিচার বিভাগকে আবারও রাজনৈতিক আদলে রাখার চেষ্টা চলছে। উচ্চ আদালতে নিরপেক্ষ নিয়োগের অধ্যাদেশ ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে আবারও সেই দলীয় আজ্ঞাবহ বিচারপতি তৈরির পথ পরিষ্কার করা হচ্ছে। পিএসসি, সিভিল প্রশাসন এবং এমনকি খেলাধুলার জগতেও চরম দলীয়করণ চলছে।’
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ব্যাংক থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুট হয়ে গেছে। একজন ঋণখেলাপিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে বসানো হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ পিষ্ট। চাঁদাবাজি আগের চেয়ে বেড়েছে। আমরা জনগণের দায়িত্ব নিয়ে রাজপথে নেমেছি এবং জনগণের অধিকার আদায়ে এক চুলও ছাড় দেব না।’
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, আর দলের চেয়ে দেশ বড়—এই নীতিতে ফিরে আসুন। গণভোটের রায় মেনে নিন। প্রতিহিংসার রাজনীতি ছেড়ে জাতীয় সংকট উত্তরণে একসঙ্গে কাজ করি। অন্যথায় ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত ফ্যাসিবাদের যে পরিণতি হয়েছিল, আপনাদের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না।’
সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং সারাদেশের ৮৯টি সাংগঠনিক জেলা ও মহানগরীর আমির ও সেক্রেটারিরা উপস্থিত ছিলেন।