করোনা ভাইরাসের সময় যখন দেশজুড়ে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয় তখন অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েন। এমন কঠিন সময়ে হাতে থাকা মাত্র ৫০০ টাকা দিয়ে চা বিক্রি শুরু করেছিলেন জামালপুর শহরের সরদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. টিটু মিয়া। সেই ছোট্ট উদ্যোগই আজ তাকে স্বাবলম্বী করেছে। বর্তমানে তিনি মাসে ৩ লাখ টাকার চা বিক্রি করেন।
জানা যায়, টিটু মিয়া দীর্ঘ ১৫ বছর সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে নানা সমস্যার কারণে সেই পেশা ছেড়ে দেন। করোনার সময় একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়লে জীবিকার নতুন পথ খুঁজতে শুরু করেন তিনি।
বর্তমানে তিনি শহরের পাঁচ রাস্তার এলাকায় একটি দোকান ভাড়া নিয়ে তিন ধরনের চা বিক্রি করেন। আদা চা ৫ টাকা, লেবু চা ১০ টাকা এবং তেঁতুল, মরিচ ও লেবু মিশিয়ে বিশেষ চা ২০ টাকা দামে বিক্রি করেন।
টিটু মিয়া শুধু নিজের জীবিকা নির্বাহই করছেন না, তার দোকানে ৩ জন তরুণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করেছেন। এর মধ্যে দুজন পড়াশোনার পাশাপাশি বিকেল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানে কাজ করেন। তাদেরকে তিনি সম্মানজনক মাসিক বেতন দেন।
টিটু মিয়া বলেন, ‘১৫ বছর সিএনজি চালিয়েছি। তখন অনেক কষ্ট ছিল। বিভিন্ন জায়গায় চাঁদা দিতে হতো, নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো। করোনার সময় একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলাম। হাতে মাত্র ৫০০ টাকা ছিল। তখন ভাবলাম কিছু একটা করতে হবে। সেই থেকেই চা বিক্রি শুরু করি। ধীরে ধীরে লোকজন বাড়তে থাকে। এখন প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার চা বিক্রি হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে চা বিক্রি করে প্রায় এক কোটি টাকা খরচ করে একটি বাড়ি করেছি। এখন পরিবার নিয়ে ভালোভাবেই চলতে পারছি। আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। ছেলে মাদ্রাসায় পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে এবং মেয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী দিবে।’
টিটু মিয়ার দোকানে নিয়মিত চা খেতে আসেন শিক্ষক আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘টিটু মিয়া একজন খুবই নম্র ও ভদ্র মানুষ। আমি প্রায়ই এখানে চা খেতে আসি। কখনো তাকে কারো সঙ্গে তর্ক করতে দেখিনি। তার হাতে বানানো চা খুবই সুস্বাদু। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে অনেক ভিড় থাকে।’
ওই শিক্ষক তিনি আরো বলেন, ‘পরিশ্রম, সততা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো ছোট উদ্যোগ থেকেও বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।’