ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বড় জয় পেয়ে সরকার গঠনের পর দলীয় কমিটিতে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সেই মোতাবেক ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে নতুন কমিটি ঘোষণা শিগগিরই আসতে পারে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের আগেই আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। নতুন কমিটি গঠনে ‘পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি’ বা ক্লিন ইমেজসম্পন্ন নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিএনপির সর্বশেষ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, নানা প্রতিকূলতার কারণে দলটির পক্ষে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে এই দীর্ঘ সময়ে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটি একাধিকবার পুনর্গঠন করা হয়েছে।
দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমানে যারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের সংগঠনের মূল দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে নিজ এলাকায় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মহানগরভিত্তিক রাজনীতিতে সক্রিয় নেতারা ইতোমধ্যে নিজ নিজ অবস্থান থেকে তৎপরতা শুরু করেছেন। সম্ভাব্য নেতৃত্বে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে তারা কেন্দ্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। একইসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজস্ব চ্যানেলে সম্ভাব্য নেতৃত্বের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন।
দলের স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য জানান, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুণগত পরিবর্তন আনতে চান তারেক রহমান। সেই লক্ষ্যেই বিতর্কমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের সামনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
উত্তরে নেতৃত্বে যারা আলোচনায়
ঢাকা মহানগর উত্তরের বর্তমান আহ্বায়ক আমিনুল হক বর্তমানে সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। আর দক্ষিণের আহ্বায়ক ফেনী ৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুন হাসান, মহানগর উত্তরের জ্যেষ্ঠ নেতা আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টনের নাম শোনা যাচ্ছে।
সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য নেতাদের মধ্যে বর্তমান সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন এবং এ জিম শামসুল হকের নাম শোনা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে আমিনুল হক বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মহানগর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং সততার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের চেয়ারম্যানের বলে জানান তিনি।
দক্ষিণেও পরিবর্তনের আভাস
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছে সাবেক আহ্বায়ক হাবিবুন নবী খান সোহেল, এবং যুবদলের বর্তমান সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নার নাম। সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আনম সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ হোসেন এবং মোশাররফ হোসেন খোকন। যদিও বর্তমান সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বিগত জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েও পরাজিত হয়েছেন।
এ বিষয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন, গত ১৫ বছর রাজপথে সক্রিয় ছিলেন তারা। তাই এবার রাজপথের পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যেসব নেতার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই এবং যাদের নেতৃত্বে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে, তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
নতুন কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমার কাছে অফিসিয়ালি এই ধরনের কোনো তথ্য নেই। তবে সংগঠনের গতিশীলতার স্বার্থে পরিবর্তন আসতেই পারে, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।’
সব মিলিয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে দলে চলছে জোর আলোচনা, তৎপরতা ও নানা জল্পনা-কল্পনা। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কারা পাচ্ছেন নেতৃত্বের দায়িত্ব।