জ্বালানি তেলের পাম্পে লম্বা লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না অনেকে। দেশজুড়ে এমন পরিস্থিতির মধ্যেই কোথাও কোথাও দেখা মিলছে অনিয়মের।
জামালপুরেও অনিয়ম চলছে। জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন এক বাস্তবতা। লাইনে এক নিয়ম, আর ভিআইপিদের জন্য আরেক নিয়ম।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর থেকে শহরের বিভিন্ন পাম্প ঘুরে এমন চিত্রই লক্ষ্য করা যায়। শহরের পিটিআই এলাকার জুই এন্টার প্রাইজে দেখা যায়, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন মোটরসাইকেলচালকরা। দীর্ঘ লাইনের মাঝেই হঠাৎ করে কিছু প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল লাইনের বাইরে থেকে সরাসরি পাম্প ও দোকানের ভিতরে ঢুকে পড়ছে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা তেল নিয়ে চলে যাচ্ছে কোনো অপেক্ষা নেই, নেই কোনো নিয়মের বালাই।
অন্যরা যখন মাত্র ২ লিটার তেল পাচ্ছেন, সেই দিকেও ভিআইপিরা ভিন্ন, কেও ট্যাংক ফুল করে নিচ্ছে, আবার কেও বা ৫-৬ লিটার করে নিচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন পাম্প সংশ্লিষ্টদের আত্মীয়-স্বজন, প্রভাবশালী স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং কিছু সরকারি কর্মকর্তা।
ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে এবিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে ক্ষোভ ঝেড়ে আজাদ নামে এক মোটরসাইকেলচালক বলেন, দেশে এখন দুই নিয়ম, যাদের ক্ষমতা আছে তারা আগে তেল পায়, আমরা সাধারণ মানুষ শুধু লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি। আর দেখি, এখন এমন অবস্থা হয়ে গেছে তাদেরকে কিছু বলাও যায় না।
অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জুই এন্টার প্রাইজের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা আসলে অনেক চাপের মধ্যে থাকি। তেলের সংকট তো আছেই, তার ওপর কিছু নির্দেশ থাকে কাদের আগে দিতে হবে। না দিলে দেখা যায় ঝামেলা তৈরি হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। আমাদের তো আর কিছু করার নেই। কেও এসে পরিচয় দিলে তো আর আমরা যাচাই করতে পারি না, কিছু বললে আবার আমাদের ওপর উত্তেজিত হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম আব্দুল্লাহ-বিন-রশিদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে এই সংকট সমাধানে চেষ্টা করছি। জরুরি সেবায় নিয়োজিত থাকা মোটরসাইকেল, যানবাহনকে অগ্রাধীকার দেওয়া হচ্ছে। তবে জ্বালানির ক্ষেত্রে কোনো ভিআইপি নেই। এখনও কোনো অভিযোগ নেই, তাই অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।