গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য শামীম কায়ছারের একটি মোটরসাইকেলে পেট্রল দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
১ মিনিট ২০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, সংসদ সদস্যের হাতে হ্যান্ডমাইক। তিনি মাইকে বলছেন, আমি সাবধান করে দিচ্ছি, আমার মোটরসাইকেলের কোনও সফর সঙ্গী নেই, লাইনে না দাঁড়ালে তেল পাবেন না।' এরপর তিনি নিজেই একজন চালকের মোটরসাইকেলের টাংকিতে পেট্রল দেন। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, আপনার মোটরসাইকেলের টাংকি খালি, এক সপ্তাহের তেল দিলাম। এক সপ্তাহ আর তেল লাগবে না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার বিকালে জ্বালানি তেলের ফিলিং স্টেশনে পেট্রল বিক্রিতে সহায়তা করেন সংসদ সদস্য শামীম কায়ছার। তিনি গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য। আজ রবিবার এই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সংসদ সদস্য এদিন বিকেল তিনটার দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সদরের বোয়ালিয়া এলাকার জেপি ফিলিং স্টেশনে তাকে পেট্রল বিক্রিতে সহায়তা করতে দেখা যায়। তিনি বেশ কিছু সময় পেট্রল বিক্রিতে সহায়তা করেন।
এদিকে সংসদ সদস্যের এই উদ্যোগে উপস্থিত মোটরসাইকেল চালকরা শৃঙ্খলনাবদ্ধ ভাবে পেট্রল সংগ্রহ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানায়, রবিবার ভোর রাত থেকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সদরের বোয়ালিয়া এলাকায় অবস্থিত জিপি ফিলিং স্টেশনে পেট্রল নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন মোটরসাইকেলের চালকেরা। ফিলিং স্টেশনের সামনে শত শত মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। সকাল নয়টার দিকে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ পেট্রল দেওয়া শুরু করেন। দুপুরের দিকে ফিলিং স্টেশনে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। খবর পেয়ে সংসদ সদস্য শামীম কায়ছার নিজেই ফিলিং স্টেশনের ছুটি যান। পরে সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে ফিলিং স্টেশনে শৃঙ্খলা ফিরে আসে।
এসব বিষয়ে জিপি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আবু মুসা বলেন, সকাল থেকে পাম্পে তেল দেওয়া হচ্ছে। পাম্পের সামনে মোটরসাইকেলের র্দীঘ লাইন। তাদের তেল দিতে সাময়িক সময়ের জন্য বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপের পরিস্থিতি সাভাবিক হয়। স্বস্তিতে পেট্রল সরবরাহ করা হয়েছে। বিকেল পাঁচটা পযর্ন্ত তেল সরবরাহ করা হয়।
তেল নিতে আসা নাকাইহাট এলাকার আবদুল লতিফ মিয়া বলেন, প্রায় চার ঘণ্টা ধরে পাম্পে তেলের জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু মোটরমাইকেলের সারি কমে না। এলোমিলো ভাবে সবাই তেল নিতে পাম্পে ভিড় করায় বিশৃঙ্খলা লেগে যায়। পরে এমপি আসলে অল্প সময়ের মধ্যে পেট্রল পেয়েছি। কামদিয়া এলাকা থেকে আসা মোস্তফা মিয়া বললেন, সকাল দশটা থেকে পেট্রলের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। বিশৃঙ্খলার কারণে পেট্রল দিতে সময় লাগছিল। এমপি সাহেব আসার পর শৃঙ্খলার মধ্যে তেল বিক্রি হয়েছে।