জতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেমের বিভ্রাটের কারণে সংসদের অধিবেশন বন্ধ রয়েছে। মাইক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল ছয়টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ৪০ মিনিটের জন্য সংসদ অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন। এর আগে গত ১২ মার্চ চলতি সংসদের প্রথম দিনেও মাইক বিভ্রাটে অধিবেশন বন্ধ ছিল প্রায় ৪০ মিনিট।
শেখ হাসিনার সরকার পতনে চব্বিশের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতা সংসদের দখল নিলে সাউন্ড সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তী তা মেরামত করা হলেও, প্রায়ই বিভ্রাট দেখা যাচ্ছে। হেডফোন এবং শব্দের মাত্রা নিয়ে এমপিরা নিয়মিত অভিযোগ করছেন।
রোববার সংসদের চারটি বিল পাসের পর চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বক্তৃতা করতে দাঁড়ান। সরকার চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩২ বছর নির্ধারণ করে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ অনুমোদন বিলে বিরোধী দল হ্যাঁ ভোট না দেওয়ায় সমালোচনা করেন। এসময় বিরোধীদল প্রতিবাদ করলেও, চিফ হুইপ বক্তব্য চালিয়ে যান। তিনি বলেন, চাকরির জন্য জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছে, কিন্তু বিরোধীদল বয়স বৃদ্ধির বিলে সমর্থন না করায় বিস্মিত হয়েছি।
সরকার দলের এমপিরা সমর্থন করেন চিফ হুইপের বক্তব্যকে। দুই পক্ষের হট্টগোলে তখন নুরুল ইসলামের বক্তৃতা শোনা যাচ্ছিল না। স্পিকার যখন চিফ হুইপকে উদ্দেশ করে বলেন, বক্তব্য শোনা যাচ্ছে না, বসে পড়ুন। এসময় এমপিরা সমস্বরে বলেন, তারা স্পিকারের কথা শুনতে পাচ্ছেন না। তখন
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তাহলে মুলতবি করে দেই’। মাইক মেরামত ও নামাজের জন্য তখন অধিবেশন ৪০ মিনিট মুলতবি করার ঘোষণা দেন স্পিকার। এরপর সংসদের কর্মকর্তারা শব্দ ব্যবস্থা পরীক্ষা করেন। যা সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকেও চলছিল।
মাগরিবের নামাজের বিরোধীর পরে সংসদের বৈঠক শুরু হলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ মাইক বিভ্রাট নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর ক্ষুব্ধ ও ক্ষীপ্ত জনতা-জাতীয় সংসদে প্রবেশ করে তছনছ করে। এ কারণেই ক্রমাগত মাইকে বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে। আরেকটি কারণ হলো ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ২০২২ সালে এ সিস্টেমটি স্থাপন করা হয়। স্থাপনের সময় এর আদৌ কোন ওয়ারেন্টি ছিলো কী না? এর কার্যকারিতার সময়কার সম্পর্কিত কোনো ডকুমেন্ট সংসদে পাওয়া যাচ্ছে না। বোঝা যাচ্ছে অত্যন্ত হেলাফেলার সাথে এই বিশাল কাজটি সম্পাদন করার চেষ্টা হয়েছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে। এজন্য আমি সংসদের সচিবকে নির্দেশ দিয়েছি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য জানানোর জন্য। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই সংসদে বারংবার বিভ্রাট রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত কলঙ্কজনক।
শীর্ষনিউজ