খুলনা বিভাগে হামের সন্দেহভাজন সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে রোগীর সংখ্যা ৬৬ থেকে বেড়ে ২৯৯-এ পৌঁছেছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাষায় ‘বিস্ফোরণধর্মী’ বৃদ্ধি। ইতোমধ্যে দুই শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ (৪ এপ্রিল) তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ মার্চ খুলনা বিভাগে মোট সন্দেহভাজন রোগী ছিল ৬৬ শিশু। এরপর ধারাবাহিকভাবে ৩১ মার্চ ১০০, ১ এপ্রিল ১৫৪, ২ এপ্রিল ১৮০, ৩ এপ্রিল ২৩৭ এবং ৪ এপ্রিল ২৯৯ শিশুর মধ্যে রোগ শনাক্ত হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন শিশু যুক্ত হওয়ায় সংক্রমণের গতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
জেলাভিত্তিক চিত্রে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে কুষ্টিয়া জেলায় ১০৩ শিশু, যেখানে দুই শিশুর মৃত্যুও হয়েছে। এরপর রয়েছে যশোর ৫৯, খুলনা সিটি কর্পোরেশন ৫৩, ঝিনাইদহ ১৮ ও সাতক্ষীরা ১৬। তুলনামূলক কম হলেও মাগুরা ১৭, নড়াইল ১২, মেহেরপুর ৪ ও বাগেরহাট ৬ শিশু হামের সন্দেহভাজন রোগী রয়েছে, যা সংক্রমণ বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদানের ঘাটতি, শিশুদের মধ্যে দ্রুত সংক্রমণ, প্রাথমিক লক্ষণ উপেক্ষা এবং দেরিতে হাসপাতালে যাওয়ার প্রবণতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। হামের উচ্চ সংক্রামকতার কারণে একজন আক্রান্ত শিশু থেকে দ্রুত অনেক শিশুর মধ্যে রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।
খুলনা বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. মুজিবুর রহমান জানান, দেশের ১৮ জেলা ও ৩০টি উপজেলায় হামের টিকাদান কার্যক্রম রোববার থেকে শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকা হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত, সেখানে জরুরি ভিত্তিতে টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যশোর সদরে আজ টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করা, যা ২১ দিন চলবে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলাতেও সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে আইসোলেশন বেডের কোনো সংকট নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই সচেতন না হলে খুলনা বিভাগে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট দেখা দিতে পারে। তারা অভিভাবকদের শিশুদের টিকা নিশ্চিত করা, লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।