Image description

নোয়াখালীতে যুবদল নেতাকে না পেয়ে কলেজ ছাত্র নিলয়কে কুপিয়েছে স্থানীয় সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিরা। শনিবার (২৮ মার্চ) ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার দত্তেরহাট বাজারে ঘটনা ঘটে।

হামলায় গুরুতর আহত নাজমুল হোসেন নিলয় পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শামসুল হক সওদাগর বাড়ির মৃত মো. আজাদের ছেলে এবং সোনাপুর ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।

জানা গেছে, নোয়াখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাকিব, আরমান, রাহাত, কালামসহ আরও বেশ কয়েকজন যুবদল নেতা যুবদল রাতুলকে না পেয়ে ভাতিজা নিলয় একটি চায়ের দোকান থেকে তুলে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মুখে আঘাত করে। হামলাকারীরা মাদককারবারীসহ এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

ভুক্তভোগী কলেজ শিক্ষার্থী নিলয় বলেন, ‘আজ ভোরে দত্তেরহাট বাজার মসজিদে নামাজ পড়ে প্রতিদিনের ন্যায় মোরগ হাঁটা বাজারের একটি টং দোকানে চা পানের উদ্দেশ্যে দাঁড়াই। হঠাৎ করে মোটরসাইকেলে করে এসে দুজন ব্যক্তি আমাকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে একটি দোকান থেকে আমাকে ধরে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রসহ প্রদর্শন করে এবং মোটরসাইকেলযোগে অপহরণ করে বাজারের পাশে গাবতলি নামক একটি মাঠে নিয়ে যায়।

সেখানে আমার চাচা যুবদল নেতা রাতুলের খোঁজ জিজ্ঞেস করে এবং বলে সে কোথায় আছে? যদি তার তথ্য না দিই তাহলে আমাকে মেরে ফেলবে। আমার নিকট আমার চাচার সন্ধান চেয়েছিল তারা কিন্তু আমি তথ্য দিতে না পারায় আমাকে অমানবিক নির্যাতনের পর দত্তেরহাট গরু বাজার সংলগ্ন পানির ট্যাংকের পিছনে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্য মুখে ও পেটে ছুরিকাঘাত করে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসলে এ যাত্রায় প্রাণে বেঁচে যাই।’

ভুক্তভোগীর মা নাছরিন আক্তার বলেন, ‘দেড় বছর পূর্বে আমার স্বামী মারা যায়। কোনোমতে ছেলে-মেয়ে নিয়ে জীবনযাপন করছি। আমার কলেজ পড়ুয়া ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্য মুখে এবং পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়। স্থানীয় এসব সন্ত্রাসীরা এলাকায় মাদক বেচাকেনা করে, মাদক সেবন করে। এদের অত্যাচারে এলাকায় থাকা যায় না। আমার ছেলের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’ 

যুবদল নেতা রাতুল বলেন, ‘আমি যুবদলের একজন সক্রিয় কর্মী। আমার এলাকা নোয়াখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাকিব, আরমান, রাহাত, কালামসহ আরো কয়েকজন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে আমি বিভিন্ন সময় কথা বলেছি এবং প্রতিবাদ করেছি। এর জের ধরে তারা বিভিন্ন সময়ে আমার ওপর হামলার চেষ্টা করেছে। আমার রাজনৈতিক কার্যালয়েও হামলা হামলা-ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। সম্প্রতি নোয়াখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রঞ্জিত কুরী নামের এক ব্যবসায়ীর মরদেহ নিখোঁজের দুইদিন পর তাদের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। 

এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলাও হয়েছিল কিন্তু মানসিক ভারসাম্যহীন ওই ব্যবসায়ীর মৃত্যুকে হত্যা বলে আমাকে সেই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আমার কলেজ পড়ুয়া ভাতিজাকে নির্বিচারে কুপিয়েছে এসব মাদক সন্ত্রাসীরা। আমি প্রশাসনের কাছে এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।