মুসলমানির অনুষ্ঠান করা বা এ উপলক্ষ্যে উপহার দেওয়া নেওয়া যাবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন বাংলাদেশি ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদউল্লাহ।
তিনি বলেছেন, মুসলমানি উপলক্ষ্যে ঘরোয়া কোনো অনুষ্ঠান করা যেতে পারে। এটা মুবাহ পর্যায়ের জিনিস। আর মুবাহ হলো এমন কাজ যার ব্যাপারে শরীয়তের কোনো আদেশ বা নিষেধ নেই। এমনকি এসব কাজে কোনো সওয়াব বা গুনাহ নেই।
তিনি আরও বলেন, মুসলমানির অনুষ্ঠানকে শরীয়ার নির্দেশ বা খতনার অংশ বা সুন্নাহ- মনে করা ভুল। কারণ শরীয়তে এমন কোনো নির্দেশ নেই।
সুন্নতে খাতনা কী?
পুরুষাঙ্গের সামনের দিকের অতিরিক্ত চামড়া কেটে দেওয়াকেই বলা হয় খতনা বা মুসলমানি। মেডিক্যাল টার্মে একে বলে সারকামসিশন। সারকামসিশন শব্দটি এসেছে লাতিন সারকামডায়ার থেকে, যার অর্থ হলো চারদিক থেকে কেটে ফেলা। মুসলিম জাতি ছাড়াও অন্য ধর্মাবলম্বীরাও খতনা দিয়ে থাকে।
কীভাবে এর প্রচলন
মুসলিম সমাজে এ সংস্কৃতি শত শত বছর ধরে চলে আসছে। এটি একটি মহান সুন্নত। যুগে যুগে বড় বড় নবী-রাসুলও এ সুন্নত পালন করেছেন। সর্বপ্রথম এ সুন্নত পালন করেছেন হজরত ইবরাহিম (আ.)।
হজরত সাইদ ইবনে মুসাইয়াব (রহ.) থেকে বর্ণিত, হজরত ইবরাহিম (আ.) হলেন খতনার সুন্নত পালনকারী সর্বপ্রথম ব্যক্তি। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস : ২৬৪৬৭)
কেন খৎনা বা মুসলমানি করা হয়?
সাধারণত ধর্মীয় রীতি অনুসারে মুসলিম ছেলে শিশুদের এটি করা হয়। কিছু কিছু জন্মগত রোগেও সাকামসিশন করার নির্দেশনা আছে। এর মধ্যে আছে— যাদের লিঙ্গের অগ্রভাগের ছিদ্র ছোট থাকে, বারবার তাদের প্রস্রাবে সংক্রমণ হতে পারে; যাদের চামড়া গ্লান্স লিঙ্গের পেছনে আটকে গিয়ে ব্যথা করে, তাদের ক্ষেত্রে এটি করা হয়; এই দুটি অবস্থার মেডিকেল টার্ম হলো ফাইমোসিস আর প্যারাফাইমোসিস।
খৎনার উপকারিতা
খতনা বা মুসলমানি করার কিছু উপকারী দিক রয়েছে। যেমন— মুসলমানি করালে মূত্রনালির সংক্রমণের ঝুঁকি কম হয়। কিছু যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকিও হ্রাস করে; ব্যালানাইটিস (গ্লান্সের প্রদাহ), ব্যালানোপোস্টাইটিস (গ্লান্স ও ফরস্কিনের প্রদাহ) প্রভৃতি প্রতিরোধ করে; অনেক সময় পুরুষাঙ্গের মাথার দিকের চামড়া মূত্রনালিতে এমনভাবে লেগে থাকে যে প্রস্রাব ভালো মতো বের হতে পারে না। তখন প্রস্রাবের নালিতে ইনফেকশন বা কিডনিতে জটিলতা হতে পারে।