Image description

ব্রাদার্সে শুরু, ফর্টিসে শেষ। পেশাদার ফুটবল খেলার মাঝে কেটে গেছে ২১ বছর। পরশু রহমতগঞ্জের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বুটজোড়া তুলে রেখেছেন মামুনুল ইসলাম। সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ারের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির বাইরেও অভিমান নিয়ে কথা বলেছেন এই মিডফিল্ডার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনোয়ার সোহাগ

প্রশ্ন: ৩০ বছরের ক্যারিয়ার পেছন ফিরে তাকালে এখন কেমন মনে হয়?

মামুনুল ইসলাম: এই ৩০ বছরের ক্যারিয়ারে প্রাপ্তি আছে, অপ্রাপ্তি আছে। অপ্রাপ্তির মধ্যে দুইটা, আর প্রাপ্তি বলতে যা পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ, এতগুলো ট্রফি আমার ঝুলিতে আছে। সবচেয়ে বড় সৌভাগ্যবান মনে করি যে মাঠ থেকে বিদায় নেওয়াটা, ফর্টিস ক্লাব আমাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে। ক্লাবে টানা চার বছর খেলছি, ক্যারিয়ারে টানা এতটা সময় আর কোনো ক্লাবে খেলিনি।। ফুটবলকে যতটুকু দিতে পেরেছি, এক সাফের শিরোপা ছাড়া মনে করি সবই দিয়েছি ফুটবলকে।

প্রশ্ন: মৌসুমের শেষ হতে বাকি আর কয়েক ম্যাচ। এর আগেই কেন অবসরের সিদ্ধান্ত?

মামুনুল: ক্লাবে তো থাকব, এখনো আমার মৌসুম শেষ হয়নি। তিন ম্যাচ আছে আমাদের হাতে, চেষ্টা করব ক্লাবকে জেতাতে।

প্রশ্ন: জাতীয় দলে এক যুগের বেশি সময় কেটেছে আপনার। অনেক কোচের অধীনে খেলেছেন। কাকে এগিয়ে রাখবেন?

মামুনুল: নির্দিষ্ট করে তো কোনো কোচের নাম বলতে পারব না। অনেক কোচের কাছে ট্রেনিং নিয়েছি। বিদেশি কোচদের মধ্যে ডিডো, রবার্ট রুবেন, লোডভিক ডি ক্রুইফ, টম সেইন্টফিট, জেমি ডে—এখনো তাঁদের সঙ্গে আমার কথা হয় এবং তাঁরা আমাকে অনেক সহায়তা করেন। তাঁদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখা হয়েছে। স্থানীয় কোচদের মধ্যে মারুফুল হক ভাই, মানিক ভাই, মিন্টু ভাই, কায়সার ভাই, টিটু ভাই। সব কোচের সঙ্গে সম্পর্কটা বেশ ভালো ছিল।

প্রশ্ন: ক্লাব ক্যারিয়ারে কোন সময়টা এগিয়ে রাখবেন। শেখ রাসেলের হয়ে ট্রেবল জয়ী দলের সদস্য, নাকি শেখ জামালের হয়ে তিনটা লিগ জেতা?

মামুনুল: কোনো নির্দিষ্ট ক্লাব বলতে পারব না। বসুন্ধরা কিংস বাদে প্রায় প্রতিটি চ্যাম্পিয়ন ক্লাবে খেলেছি। প্রতিটা ক্লাবই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। যে ক্লাব আমাকে সম্মান দিয়েছে—ফর্টিস এফসি। আসলে আমাদের ক্লাব-সংস্কৃতি পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের যাঁরা সিনিয়র দায়িত্বে আছেন, তাঁরা সেভাবে সাপোর্ট করেন না। আমি কিন্তু ফর্টিস এফসিকে কোনো শিরোপা দিতে পারিনি। তবে বাকিরা যে সম্মানটুকু আমাকে দিতে পারেনি, সেটা আমাকে ফর্টিস দিয়েছে। আমাদের এই সংস্কৃতিতে বদল আনতে হবে। খেলোয়াড়েরা যেভাবেই খেলুক, তাদের ঠিকভাবে সম্মানটা দিতে হবে।

প্রশ্ন: ২০১৪ আইএসএলে আতলেতিকো দি কলকাতা আপনাকে দলে নিলেও খেলায়নি। বাংলাদেশের দর্শক টানতেই কি তারা আপনাকে নিয়েছিল?

মামুনুল: না। সুযোগ না পাওয়ার কারণ অনেকবার বলছি। তাদের সঙ্গে আমি কন্ডিশনিং ট্রেনিংয়ে যেতে পারিনি। আমি অনূর্ধ্ব-২৩ ন্যাশনাল টিমের ট্রেনিংয়ে ছিলাম, ক্যাম্পে ছিলাম এশিয়ান গেমস খেলতে। আমি যখন গিয়েছি, তখন খেলা শুরু হতে এক সপ্তাহ বাকি। কোচ আমাকে ভালোভাবে দেখতে পারল না। যখন আমি মাঠে ১৮ জনের মধ্যে ঢুকছি—যেকোনো সময় নামতে পারি, তখনই আমাকে ফিফা ফ্রেন্ডলি খেলতে দেশে ডেকে নিয়ে এল। আবার ওখানে গেলাম, চোটে পড়ার পর আবার রিকভার করতে আমার ১৫ দিন লাগল। এভাবেই সময় চলে গেছে। কিন্তু এটা কোনো ইস্যু না। আমি মনে করি, আমার এটা দুর্ভাগ্য, আর কিছু না।

প্রশ্ন: ২০১৮ সালে বাংলাদেশে সর্বশেষ সাফ হয়েছিল। দুই ম্যাচ জিতেও বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি।

মামুনুল: আমরা পরপর দুটি ম্যাচ জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে আমাদের যেখানে কোয়ালিফাই করার কথা ছিল, সেটা করতে পারিনি নেপালের সঙ্গে হেরে। এটা খুবই কষ্টকর অভিজ্ঞতা ছিল। আমি দুইটা ম্যাচ খেলছি। ২০১০ সালের পর থেকে আমার পিক টাইম চলেছে। ১৬-১৭ মৌসুমের লিগটা আমার ভালো যায়নি চট্টগ্রাম আবাহনীতে। তবে যখন ঢাকা আবাহনীতে সাইন করি, আবার ছন্দ ফিরে পেলাম। তখনই (২০১৮ সাফে) এই সাফল্য পেলে নিশ্চয় ওই সময়ে অবসর নিতাম।

প্রশ্ন: আপনি নিজে মিডফিল্ডে খেলেছেন, সেই মিডফিল্ড এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা।

মামুনুল: হামজা যে স্ট্যান্ডার্ডে আমাদের নিয়ে গেছে, এতে করে আমাদের ফুটবলের মার্কেট ভ্যালুও বেড়েছে। হামজা-শমিতরা সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখলে, চূড়ায় পৌঁছাতে খুব বেশি সময় লাগবে না। এখনকার দলের সঙ্গে খেলতে পারলে আমার খেলাটা আরও উন্নত হতো। হামজা আমার পেছনে থাকবে, আমি হামজার সামনে থাকব—এতে করে ফুটবলটা আরও বেশি ভালো খেলতে পারতাম। হামজার মতো খেলোয়াড় আপনাকে কাভার করছে। আমার জন্য খেলা আরও সহজ হতো।

প্রশ্ন: ক্যারিয়ারজুড়ে বাফুফের কাছ থেকে কেমন সহযোগিতা পেয়েছেন?

মামুনুল: ক্যারিয়ারে ১৫টা বছর জাতীয় দলে খেলেছি। তারপরও ফেডারেশনের কাছ থেকে কোনো সাপোর্ট পাইনি। যুদ্ধ করে এগিয়েছি। শেষ বেলায় ফেডারেশনের কাছে অবসর নেওয়ার সুযোগ চেয়েছিলাম, সেটাই তো পাইনি। এ নিয়ে কারও প্রতি ক্ষোভ নেই। কারও প্রতি কোনো চাওয়া ছিল না।