লেবানন ও সিরিয়ার সীমান্তে ইসরাইলি সেনাদের সঙ্গে হিজবুল্লাহর তুমুল সংঘর্ষ চলছে। লেবাননের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী অবতরণের চেষ্টা করলে সেখানে সংঘর্ষ শুরু হয়। হিজবুল্লাহ বলেছে, তাদের যোদ্ধারাও এই সংঘর্ষে অংশ নিয়েছে। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে সোমবার হিজবুল্লাহ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পর থেকে ইসরাইল লেবাননে বহুবার বিমান হামলা চালিয়েছে এবং স্থলসেনাও পাঠিয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, লেবানন-সিরিয়া সীমান্তের পূর্বাঞ্চলীয় পর্বতমালা এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর অবতরণের চেষ্টা ঠেকাতে সংঘর্ষ চলছে।
সংস্থাটি জানায়, ঘটনাস্থল নাবি শিত এলাকা, যা পূর্বাঞ্চলের বালবেক জেলার মধ্যে অবস্থিত এবং সেখানে হিজবুল্লাহর শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে। হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের যোদ্ধারা সিরিয়ার দিক থেকে ইসরাইলি শত্রু বাহিনীর চারটি সামরিক হেলিকপ্টারের অনুপ্রবেশ লক্ষ্য করেছে। সংগঠনটির মতে, হেলিকপ্টার থেকে নামার পর অগ্রসর হওয়া ইসরাইলি সেনারা নাবি শিত কবরস্থানের কাছে পৌঁছালে হিজবুল্লাহর একটি দলের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে হালকা ও মাঝারি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
হিজবুল্লাহ আরও জানায়, শত্রু বাহিনী প্রকাশ্যে চলে আসার পর সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। তারা দাবি করে, এরপর ইসরাইলি বাহিনী ব্যাপক হামলা চালায় এবং পরে এলাকা থেকে সেনাদের সরিয়ে নিতে শুরু করে। আরেকটি বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরাইলি বাহিনী সরে যাওয়ার সময় হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা তাদের লক্ষ্য করে রকেট নিক্ষেপ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আকাশের দিকে একের পর এক গুলিবর্ষণের দৃশ্য দেখা গেছে।
এনএনএ জানিয়েছে, শুক্রবার নাবি শিত এলাকায় কমপক্ষে ১৩টি ইসরাইলি বিমান হামলা হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৯ জন।
শীর্ষনিউজ