Image description
 

ইরানের চলমান পরিস্থিতি আরও বাজে হলে তুরস্ক সীমান্তে একটি ‘বাফার জোন’ স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। আঙ্কারা চাচ্ছে, যদি সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ঘটে অর্থাৎ তেহরান সরকারের পতন হয়, তবে তারা সীমান্তে ঢল ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নেবে।  

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা পার্লামেন্টে রুদ্ধদার বৈঠক করেন। সেখানে আইনপ্রণেতাদের জানানো হয়, আঙ্কারা কয়েকটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া দুজন কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আই’কে জানিয়েছেন, বৈঠকে একজন কর্মকর্তা ‘বাফার জোন’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। মূলত তুরস্ক অস্থির থাকা ইরানের শরণার্থী প্রবেশ আটকাতে চাচ্ছে।

তবে অন্য একজন অংশগ্রহনকারী ‘বাফার জোন’ শব্দটি ব্যবহার করেননি বলে জানিয়েছেন। যদিও তারা সীমান্তের বাইরে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

চলতি মাসের শুরুতে তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ৫৬০ কিমি দীর্ঘ ইরান সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০৩টি ইলেক্ট্রো-অপটিক টাওয়ার, ৪৩টি লিফটসহ টাওয়ার, ৩৮০ কিমি দৈর্ঘ্যের মডুলার কংক্রিট প্রাচীর, ৫৫৩ কিমি প্রতিরক্ষা খাল এবং সীমান্ত এলাকা ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করা হচ্ছে ড্রোন দিয়ে।

ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ মূলত দ্রুত মুদ্রাস্ফীতি এবং দেশটির মুদ্রার অবমূল্যায়ন কেন্দ্র করেই হয়। কিছু বিক্ষোভ সহিংসতা করলেও, বিভিন্ন তদন্ত ও ফুটেজ দেখায় যে তেহরান সরকার অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করেছে। এছাড়াও ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে। সেখানে হাজারো মানুষকে আটক করা হয়েছে। মারা গেছেন কয়েক হাজার। তবে এরমাঝে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার একটি চাপ আছে।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান গত শুক্রবার টেলিভিশনে বলেন, তুরস্ক ইরানে কোনো বিদেশী হস্তক্ষেপের বিরোধী এবং মার্কিন সরকারকে কূটনৈতিক মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

তবে তুর্কি সরকার বুঝতে পারছে, সরকার পরিবর্তন বা যুদ্ধের ফলাফল কতটা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণ এবং ২০১১-২০২৪ সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের অভিজ্ঞতা তাদের বাস্তব অবস্থা বুঝিয়েছে। বর্তমানে লাখো শরণার্থী তুরস্কে অবস্থান করছে।

এ পরিস্থিতিতে তুরস্ক শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজনে থাকা শরণার্থীদের গ্রহণ করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত। এছাড়া, তুরস্ক প্রতিবেশি দেশের শরণার্থীদের জন্য ‘ওপেন ডোর’ নীতি আর প্রয়োগ করবে না। বর্তমানে ইরানিরা তুরস্কে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারে। তবে ইরানের অবস্থা অবনতি হলে তুরস্ক কিভাবে তা নেবে, তা এখন বড় প্রশ্ন।