ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলার বিভিন্ন বিকল্প সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
রোববার (১১ জানুয়ারি) দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, বিদেশি ‘শত্রুরা’ এই অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে এবং নাগরিকদের তথাকথিত ‘শত্রু চক্রান্ত’ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের গোয়েন্দা শাখা ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রায় ১০০ জনকে ‘সশস্ত্র দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে আটক করা হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা এই বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছেন।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বক্তব্য আরও কড়া করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ইরানের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভরত জনগণের পাশে যুক্তরাষ্ট্র ‘সহায়তার জন্য প্রস্তুত’। এর আগে তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হয়, তবে মার্কিন বাহিনী ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’— অর্থাৎ সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, ইরানে মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়ন থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ১১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ বিক্ষোভ পরে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পদত্যাগের দাবিতে রূপ নেয়। একই সঙ্গে ইরানের বাইরে লন্ডনসহ বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।