হঠাৎ আকাশ থেকে বিশেষ বিমানে নেমে এলো মার্কিন কমান্ডোরা। খোদ রাজধানী শহরের বুকে তারা ঢুকে পড়ল প্রেসিডেন্টের সুরক্ষিত প্রাসাদে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শোবার ঘর থেকে সস্ত্রীক টেনে হিঁচড়ে বের করে আনা হলো রাষ্ট্রপ্রধানকে। চোখের পলকে তাকে বন্দি করে বিমানে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো কয়েক হাজার মাইল দূরের এক দেশে। কারাকাসের সেই নাটকীয় দৃশ্য এখন ঘুম কেড়ে নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম পরাশক্তি ইরানের শাসকদের।
ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর এভাবে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ইরানের জন্য কেবল এক দুঃস্বপ্ন নয়, বরং এক অশনিসংকেত। গত এক সপ্তাহ ধরে ইরানের আকাশেও জমছে চরম অস্থিরতার মেঘ।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আর মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে দেশটির ৮৮টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে স্মরণকালের ভয়াবহ গণবিক্ষোভ। বাসিজ বাহিনীর কঠোর দমনে রাজপথে ইতোমধেই রক্ত ঝরছে। নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২৯, গ্রেপ্তার হয়েছে সহস্রাধিক।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করেছে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চললে ইরানকে ভয়াবহ আঘাত করা হবে।
গত গ্রীষ্মে ইসরায়েলি হামলার ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই তেহরান এখন ত্রিমুখী সংকটে। তবে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নতি স্বীকার করতে নারাজ। তিনি এই বিক্ষোভকে বিদেশি ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে দমনের ডাক দিয়েছেন। ভেনিজুয়েলার পতন আর ইরানের টালমাটাল অবস্থা— দুইয়ের মিল এখন বিশ্বরাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিচ্ছে।