ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই মামলায় মার্কেন্টাইল ব্যাংকের দুই ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) ব্যাংকটির ১০ কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (ঢাকা-১) অভিযোগটির অনুসন্ধান দলনেতা উপপরিচালক রাশেদুল ইসলাম মামলাটি করেছেন। তার সঙ্গে অনুসন্ধান দলে ছিলেন সহকারী পরিচালক মেহেদী মুসা জেবিন ও সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম।
আসামিরা হলেন ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওবায়দুল করিম এবং তার ছেলে ওরিয়ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সালমান ওবায়দুল করিম।
অন্য আসামিরা হলেন, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি ও শাখা ব্যবস্থাপক (বর্তমানে-অবসরপ্রাপ্ত) গাউস-উল-ওয়ারা মোর্তজা, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড ক্রেডিট ইনচার্জ বর্তমানে ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ডিভিশন (সেন্ট্রালাইজড অপারেশন ডিভিশন) প্রতাপ কুমার দেশমুখ্য, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজার অপারেশন বর্তমানে এসভিপি মো. অলিউল্লাহ, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যান্ড সিইও মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যান্ড সিআরও বর্তমানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান, অ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (ক্রেডিট ডিভিশন) মো. আব্দুল কাদের, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট বর্তমানে ক্রেডিট ইনচার্জ মো. বাবর আলী মোল্লা, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ক্রেডিট ইনচার্জ মো. ইকরামুল ইসলাম খান, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা প্রধান বর্তমানে চিফ অপারেটিং অফিসার মো. আব্দুল হালিম, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ফরেন ট্রেড ইনচার্জ বর্তমানে প্রধান শাখার ম্যানেজার অপারেশন মো. আতিকুর রহমান।
অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
মোহাম্মদ ওবায়দুল করিম, সালমান ওবায়দুল করিম, গাউস-উল-ওয়ারা মোর্তজা, প্রতাপ কুমার দেশমুখ্য, মো. অলিউল্লাহ, মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী, মতি-উল-হাসান, মো. আব্দুল কাদের, মো. বাবর আলী মোল্লা, মো. ইকরামুল ইসলাম খান, মো. আব্দুল হালিম, মো. আতিকুর রহমান পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক অসদাচরণ করেন। তারা পর্যাপ্ত জামানত না থাকার পরও ঋণ দেন ও নেন। ব্যাংকিং আইনের পরিপন্থি হিসেবে ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় গৃহীত দুটি মেয়াদি ঋণ রূপান্তর করে ডমেস্টিক ব্যাংকিং ইউনিটভুক্ত দেশীয় মুদ্রায় দুটি মেয়াদি ঋণ তৈরি করেন। শ্রেণিকরণযোগ্য ঋণের দায় পরিশোধে নতুন ঋণ তৈরি করা এবং ওই ঋণের মেয়াদ নতুন করে সাত বছর করার মাধ্যমে গ্রাহককে অযৌক্তিক সুবিধা দেন। ঋণের ডাউন পেমেন্ট যথাযথভাবে পরিশোধ না হওয়া সত্ত্বেও ঋণের পুনঃতফসিলিকরণ করেন। তারা মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ৫০৭ কোটি ৫১ লাখ ৪১ হাজার ৩৪১ টাকা আত্মসাৎ করেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ, ওরিয়ন পাওয়ার রূপসা লিমিটেডের পক্ষে ২০১৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওবায়দুল করিম ১০৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ প্রকল্পে মূলধনী যন্ত্রাংশ আমদানির জন্য মার্কেন্টাইল ব্যাংকের প্রধান শাখায় ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে আবেদন করেন। ওরিয়ন পাওয়ার রূপসা লিমিটেডের বোর্ড অব ডিরেক্টরস ছিলেন মোহাম্মদ ওবায়দুল করিম ও সালমান ওবায়দুল করিম। ২৫ সেপ্টেম্বর মার্কেন্টাইল ব্যাংক প্রধান শাখা থেকে ৬৯১ কোটি ১৪ লাখ টাকা ঋণ দেয়ার সুপারিশ করা হয়। সুপারিশপত্রে স্বাক্ষর করেন গাউস-উল-ওয়ারা মোর্তজা, মো. অলিউল্লাহ ও প্রতাপ কুমার দেশমুখ্য। ১২ অক্টোবর মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন থেকে ৬৭৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকার (ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড) ঋণ অনুমোদন করা হয়।
দুদক থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মোহাম্মদ ওবায়দুল করিম ও আরজুদা করিমকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির জন্যও অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
শীর্ষনিউজ