যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম আরও কয়েক বছর ধরে চলতে পারে। দেশটির তেল খাত ও রাজনৈতিক রূপান্তরের ওপর ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণ জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ মন্তব্য করেন তিনি। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবরটি জানিয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ভেনেজুয়েলার ওপর আমাদের তদারকি কতদিন চলবে, তা সময়ই বলে দেবে। আমরা তেল নিচ্ছি, লাভজনকভাবে তাদের অর্থনীতি পুনর্গঠন করছি এবং তাদের যে অর্থের তীব্র প্রয়োজন, সেটাও দিচ্ছি। নির্বাচন কবে হবে, তা এখনও বলা যাচ্ছে না।”
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ অনির্দিষ্টকাল বজায় থাকবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, কারাকাসের অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর প্রভাব বজায় রাখতে এই চাপ প্রয়োজন।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, “অন্তর্বর্তী নেতা ডেলসি রোদ্রিগেজ আমাদের প্রয়োজনীয় সবকিছুই দিচ্ছেন। আর ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ কেবল যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্য কেনার ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হবে।”
বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো বলেন, নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুতি ভেনেজুয়েলাকে স্বাধীনতার পথে এমন এক জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে, যেখান থেকে আর পিছু হটা সম্ভব না। তবে ট্রাম্প মাচাদোর নেতৃত্বের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, তিনি সম্মান ও সমর্থন, দুটোই হারিয়েছেন।
দুর্নীতি ও নিষেধাজ্ঞার চাপে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প কার্যত ধসে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিরোধী নেতা এদমুন্দো গঞ্জালেস বিপুল ব্যবধানে জয়ী হলেও মাদুরোপন্থিদের ঘোষণায় তাকে পরাজিত দেখানো হয়। পরে তাকে বাধ্যতামূলক নির্বাসনে পাঠানো হয়।
গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত মারিয়া কোরিনা মাচাদো বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, গঞ্জালেসের নির্বাচনি ম্যান্ডেট মানতে হবে এবং সব রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিতে হবে।