যুক্তরাষ্ট্র শনিবার ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়েছে এবং যার হাতে প্রেসিডেন্টকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। লাতিন আমেরিকায় সামরিক হস্তক্ষেপ ও স্বৈরশাসক সমর্থনের দীর্ঘ ইতিহাস বহন করে আসছে দেশটি।
বহুবারই প্রয়াত ভেনেজুয়েলান নেতা হুগো শাভেজ এবং তার উত্তরসূরি নিকোলাস মাদুরো ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানচেষ্টা ও সমর্থনের অভিযোগ তুলেছেন।
নিচে শীতল যুদ্ধকাল (কোল্ড ওয়ার) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কিছু হস্তক্ষেপের উল্লেখ করা হলো—
গুয়াতেমালা (১৯৫৪)
১৯৫৪ সালের ২৭ জুন ভূমি সংস্কার নীতির ফলে শক্তিশালী মার্কিন কম্পানি ইউনাইটেড ফ্রুট করপোরেশনের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার পর, যুক্তরাষ্ট্র-প্রশিক্ষিত ও অর্থায়িত ভাড়াটে বাহিনীর চাপে প্রেসিডেন্ট কর্নেল হাকোবো আরবেন্স গুজমান ক্ষমতাচ্যুত হন।
কিউবা (১৯৬১)
১৯৬১ সালের ১৫ থেকে ১৯ এপ্রিল সিআইএ-সমর্থিত এক হাজার ৪০০ জন কাস্ত্রোবিরোধী যোদ্ধা হাভানা থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরের ‘বে অব পিগস’-এ অবতরণের চেষ্টা করে, কিন্তু ফিদেল কাস্ত্রোর কমিউনিস্ট সরকার উৎখাতে ব্যর্থ হয়। দুই পক্ষেই শতাধিক মানুষ নিহত হয়।
ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র (১৯৬৫)
১৯৬৫ সালে ‘কমিউনিস্ট হুমকি’ দেখিয়ে সান্তো দোমিঙ্গোতে মেরিন ও প্যারাট্রুপার পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র।
স্বৈরশাসকদের পৃষ্ঠপোষকতা (১৯৭০-এর দশক)
শীতল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বামপন্থী সশস্ত্র আন্দোলন ঠেকাতে ওয়াশিংটন একাধিক সামরিক স্বৈরতন্ত্রকে সমর্থন দেয়। ১৯৭৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিলির বামপন্থী প্রেসিডেন্ট সালভাদর আইয়েন্দেকে উৎখাতে স্বৈরশাসক আগুস্তো পিনোশেকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করে। ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার আর্জেন্টিনার জান্তা সরকারকে সমর্থন দেন।
১৯৭০ ও ৮০-এর দশকে ‘অপারেশন কন্ডোর’-এর মাধ্যমে আর্জেন্টিনা, চিলি, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে, বলিভিয়া ও ব্রাজিল—এই ছয় দেশ বামপন্থী বিরোধীদের নির্মূলে সহযোগিতা করে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নীরব সমর্থন ছিল বলে ধরা হয়।
মধ্য আমেরিকার যুদ্ধ (১৯৮০-এর দশক)
১৯৭৯ সালে নিকারাগুয়ায় সান্দিনিস্তা বিদ্রোহ একনায়ক আনাস্তাসিও সোমোজাকে ক্ষমতাচ্যুত করে। কিউবা-সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান ‘কনট্রা’ বিদ্রোহীদের জন্য গোপনে সিআইএকে দুই কোটি ডলার সহায়তার অনুমোদন দেন, যার অংশ আসে ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রির অবৈধ চুক্তি থেকে। যুদ্ধ ১৯৯০ সালে শেষ হয়, নিহত হয় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।
রিগ্যান এল সালভাদরেও সামরিক উপদেষ্টা পাঠান ফারাবুন্দো মার্তি ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্টের (এফএমএলএন) বিদ্রোহ দমনে—যে গৃহযুদ্ধে (১৯৮০-১৯৯২) নিহত হয় ৭২ হাজার মানুষ।
গ্রেনাডা (১৯৮৩)
১৯৮৩ সালের ২৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী মরিস বিশপ হত্যাকাণ্ডের পর এবং কিউবানদের বিমানঘাঁটি সম্প্রসারণের প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাষ্ট্র ‘আর্জেন্ট ফিউরি’ অভিযান চালায়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নিন্দিত এই অভিযান ৩ নভেম্বর শেষ হয়, নিহত হয় শতাধিক মানুষ।
পানামা (১৯৮৯)
বিতর্কিত নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ‘জাস্ট কজ’ নামে সামরিক অভিযান চালান। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সহযোগী জেনারেল মানুয়েল নরিয়েগা আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় ২৭ হাজার মার্কিন সেনা অংশ নেয়। সরকারি হিসাবে মৃত্যু ৫০০, যদিও এনজিওগুলো সংখ্যাটিকে কয়েক হাজার বলে দাবি করে।
পরবর্তীতে নরিয়েগা যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও নিজ দেশে দীর্ঘ কারাদণ্ড ভোগ করেন।