ঢাকায় পাকিস্তান স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়ের রেশ কাটতে না কাটতেই সুর পাল্টালেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) মাদরাস আইআইটির এক অনুষ্ঠানে তিনি পাকিস্তানকে সরাসরি ‘খারাপ প্রতিবেশী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কেবল নামহীন আক্রমণই নয়, জয়শঙ্কর পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের হাত থেকে নিজ দেশের জনগণকে রক্ষার জন্য যা প্রয়োজন ভারত ঠিক তাই করবে। খবর এনডিটিভির।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হচ্ছে। জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে বলেন, যদি কোনো প্রতিবেশী দেশ সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা অবিরাম ও অনুতপ্তহীনভাবে সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাবে, তবে আমাদের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার আছে। এই অধিকার ভারত কীভাবে এবং কখন প্রয়োগ করবে, তা অন্য কেউ বলে দেবে না বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলা ১৯৬০ সালের সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি বাতিলের পক্ষেও এদিন শক্তিশালী যুক্তি তুলে ধরেন জয়শঙ্কর। তার মতে, এক পক্ষ সন্ত্রাসবাদ চালাবে আর অন্য পক্ষ থেকে বন্ধুত্বের সুবিধা নেবে—এটি হতে পারে না। তিনি বলেন, আপনি একদিকে সন্ত্রাসবাদ চালাবেন আর অন্যদিকে বলবেন পানি শেয়ার করুন, এমন সমন্বয় অসম্ভব। প্রতিবেশীর কাছ থেকে যদি নূন্যতম সৌজন্য না পাওয়া যায়, তবে ভারতও তার উদারতা দেখাবে না।
উল্লেখ্য, গত বছর জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগমামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ পর্যটক নিহতের ঘটনায় দুই দেশের উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছিল। যার জের ধরে ভারত মে মাসে পাকিস্তানে মিসাইল হামলা চালায় এবং জবাবে পাকিস্তানও পাল্টা হামলা করে। চার দিনব্যাপী সেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় থামলেও দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো শান্ত নয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জয়শঙ্করের এই কঠোর অবস্থান প্রমাণ করে যে পাকিস্তানের সঙ্গে আপাতত কোনো শিথিল কূটনীতিক পথে হাঁটতে রাজি নয় মোদী সরকার।
শীর্ষনিউজ