দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তের কাছে তিনটি হাউইটজার কামান সারিবদ্ধভাবে মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তবর্তী শহর গিমপো থেকে ১২২ মিলিমিটার ক্যালিবারের তিনটি স্বচালিত হাউইটজার কামান দেখা যায়। কামানগুলোর নল দক্ষিণ দিকে তাক করা ছিল।
ধারণা করা হয়, এই মডেলের হাউইটজার কামানের পাল্লা প্রায় ১৫ মাইল (২৪ কিলোমিটার)। ফলে দক্ষিণ কোরিয়া এর আওতায় চলে আসবে।
তবে পিয়ংইয়ং শুধু সিউলকেই যে বার্তা দিতে চাইছে, তা নয়।
প্রতিটি কামানবাহী ট্রাকের সামনের দিকে কোরীয় ভাষায় লেখা ছিল, ‘কোরীয় জনগণের শপথকৃত শত্রু যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসীদের ধ্বংস করো!’
বার্তা সংস্থা রয়টার্স আরও জানিয়েছে, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যবর্তী ১৬০ মাইল দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা অসামরিকীকরণ অঞ্চল বা ডিমিলিটারাইজড জোনে (ডিএমজেড) বেড়া নির্মাণের কাজ করছিলেন উত্তর কোরিয়ার ২০ থেকে ৩০ জন সেনাসদস্য।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার এভাবে প্রকাশ্যে কামান প্রদর্শন করা অস্বাভাবিক। তবে মোতায়েন করা হাউইটজার ব্যবস্থাগুলো দেশটির নতুন উদ্ভাবিত অস্ত্রের পরিবর্তে পুরোনো সামরিক সরঞ্জাম বলে মনে হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন জাং দো-ইয়ং বলেন, ‘আমাদের ধারণা, উত্তর কোরিয়া উপকূলীয় এলাকাগুলোতে পুরোনো কামান মোতায়েন করেছে, যেগুলো প্রকাশ্যেই দেখা যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক বিবৃতিগুলোতে নতুন অস্ত্রব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেছে। তবে আমরা মনে করি, এটিকে তেমন কোনো অস্ত্রব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।’
গত সেপ্টেম্বর থেকে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ওই সময় ডিএমজেডে একটি মাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনাসদস্য আহত হন।
সিউল এ ঘটনার জন্য পিয়ংইয়ংকে ক্ষমা চাইতে বলেছে। তবে উত্তর কোরিয়া তা প্রত্যাখ্যান করেছে। উল্টো দেশটি দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ঘটনাটি সাজিয়ে তোলার অভিযোগ এনেছে।
সোমবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে দেশটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অভিযোগ দায়ের করেছে।
পিয়ংইয়ং বলেছে, ঘটনাটি ‘ডিপিআরকে-এর দক্ষিণ সীমান্ত সুরক্ষিত করার কার্যক্রমকে ‘সামরিক আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বাধাগ্রস্ত ও বিলম্বিত করার একটি ঘৃণ্য প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।’
ডিপিআরকে হলো দেশটির সরকারি নাম ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়ার সংক্ষিপ্ত রূপ।
উত্তর কোরিয়া আরও বলেছে, দক্ষিণ সীমান্ত সুরক্ষিত করার এই কার্যক্রম ‘বাহ্যিক আগ্রাসনের হুমকি থেকে নিজেদের ভূখণ্ডের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য একটি আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ’।
গত বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং বলেন, পিয়ংইয়ং সীমান্তজুড়ে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়াবিরোধী প্রচারণা প্রচার করবে।
যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র। তবে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করতে আগ্রহী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু তার প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পায়নি।
পিয়ংইয়ং যুক্তরাষ্ট্র কিংবা দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে চায়—এমন কোনো দেশের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ দেখায়নি।
আগামী মাসে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্প ও কিম দুজনেরই চীনে থাকার কথা। তবে তাদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
ট্রাম্প বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই ভালো। আর আমি নিশ্চিত নই, কেউ বৈঠকের জন্য অনুরোধ করছে কি না।’
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ