ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। গত ৪৫ বছরের মধ্যে এই সময়ে ভোটার উপস্থিতির সর্বোচ্চ রেকর্ড এটি। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির দৈনিক ইয়েদিওত আহরোনোত।
নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক দিন লিভনেহ জানান, সকাল ১০টার মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১২ লাখের বেশি ইসরায়েলি।
২০২২ সালের সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে একই সময় ভোট পড়েছিল ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ। এবার ভোটার উপস্থিতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশীয় পয়েন্ট।
ভোটার উপস্থিতি বেশি হওয়ার জন্য আরব ভোটার ও বামপন্থীদের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক অংশগ্রহণকে দায়ী করেছেন কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, আরব সম্প্রদায়ের মধ্যে অস্বাভাবিক হারে ভোটদান এবং ঐতিহ্যগতভাবে বামপন্থী দলগুলোকে সমর্থন করা এলাকাগুলোতে বেশি ভোট পড়ায় সামগ্রিক উপস্থিতি বেড়েছে।
আরব বংশোদ্ভূত নেসেট সদস্য আহমেদ তিবিও ভোটার উপস্থিতি অস্বাভাবিকভাবে বেশি বলে জানিয়েছেন। নির্বাচনে ভালো ফলের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ভোটকেন্দ্রগুলোতে নজিরবিহীন ভিড়। আমি নিশ্চিত, আমরা বড় জয় অর্জন করব।’
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকবেন কি না, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এবারের নির্বাচন। এ পরিস্থিতিতে ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে প্রচার চালাচ্ছে আরব রাজনৈতিক দলগুলো ও বিরোধী নেতারা।
জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ১০টা পর্যন্ত আইন হোদ ও সেদে নেহেমিয়া এলাকায় ভোট পড়েছে যথাক্রমে ২৫ দশমিক ৭ ও ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ। নেস হারিম ও ওদিম এলাকায় ভোটার উপস্থিতি ছিল যথাক্রমে ২৩ দশমিক ২ ও ২৩ শতাংশ।
বিরোধী নেতারাও মঙ্গলবার সকালে নেতানিয়াহুর শাসনের অবসান ঘটাতে ইসরায়েলিদের ব্যাপকভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিরোধী দল ইসরায়েল বেইতেনুর নেতা আভিগদর লিবারম্যান নেতানিয়াহু-যুগের অবসান চেয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধী দল ইয়াশারের নেতা গাদি আইজেনকোট ভোটারদের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবারের নির্বাচনে ১২০ আসনের নেসেটের সদস্য নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য ইসরায়েলির সংখ্যা ৭৩ লাখের বেশি। স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটকেন্দ্র খুলেছে। রাত ১০টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলার কথা রয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশটির প্রথম সাধারণ নির্বাচন।
নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব, গাজায় গণহত্যা, ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত এবং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে গভীর বিভাজনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই ভোট।
নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট এবং বিরোধী দলগুলো সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, কোনো পক্ষই নিশ্চিতভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। ফলে পরবর্তী সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি