রাজধানীজুড়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে থাকায় স্কুল বন্ধ করার চলমান প্রক্রিয়ায় আরও ক্ষমতা এবং সরকার ও শিক্ষা অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চেয়েছে লন্ডনের স্থানীয় সরকার বিভাগ।
লন্ডন কাউন্সিলসের পক্ষ থেকে পরিচালিত এবং ইসলিংটন কাউন্সিলের নেতৃত্বে করা এক নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, স্কুল বন্ধের প্রক্রিয়া বর্তমানে অনেক পরিবার, শিশু ও স্কুলকর্মীর ওপর উল্লেখযোগ্য মানসিক চাপ ফেলছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা বন্ধের প্রক্রিয়ায় তারা অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন।
গত পাঁচ বছরে লন্ডনে প্রায় ৯০টি স্কুল বন্ধ বা একীভূত হয়েছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও কমবে বলে পূর্বাভাস থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রক্রিয়াটি উন্নত করতে চায় লন্ডনের স্থানীয় সরকার বিভাগ, যাতে স্কুল বন্ধ ও একীভূতকরণে সৃষ্ট অসুবিধা কমে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুল বন্ধ শিশু, পরিবার ও কর্মীদের জন্য বিঘ্নকর অভিজ্ঞতা হতে পারে। প্রধান শিক্ষকেরা প্রক্রিয়াটিকে মর্মান্তিক বলে বর্ণনা করেছেন। স্কুল বন্ধের পরামর্শ চলাকালে কিছু পরিবার কয়েক মাস অনিশ্চয়তায় থাকে, নতুন স্কুলে আসন খুঁজবে কি না বুঝতে পারে না। কর্মীরাও ভাবেন, নতুন চাকরি খোঁজা উচিত কি না। সন্তান যে ধরনের বা যে স্থানের স্কুলেই পড়ুক, পরিবারগুলোর বিঘ্ন কমাতে স্কুল বন্ধ প্রক্রিয়ায় উন্নতির সুপারিশ করেছে লন্ডন কাউন্সিলস।
স্কুলগুলোতে প্রতি শিক্ষার্থীর হিসাবে অর্থায়ন হওয়ায় শিক্ষার্থী কমে যাওয়া শিক্ষাব্যবস্থার ওপর ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপও ফেলছে। লন্ডন কাউন্সিলসের হিসাবে, এর ফলে আগামী চার বছরে রাজধানীর স্কুলগুলো ৪ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড তহবিল হারাতে পারে।
লন্ডন কাউন্সিলসের শিশু ও শিক্ষাবিষয়ক নির্বাহী সদস্য কাউন্সিলর উনা ও হ্যালোরান বলেন, স্কুল বন্ধ শিশু, তাদের পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলকর্মীদের জন্য অত্যন্ত বিঘ্নকর অভিজ্ঞতা হতে পারে। বন্ধের কথা ভাবার আগে বরোগুলো সব সম্ভাব্য বিকল্প খতিয়ে দেখে। কিন্তু লন্ডনজুড়ে শিক্ষার্থী কমতে থাকায় আমাদের স্কুলগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্রমেই কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, স্থানীয় সরকার বিভাগকে যেন আরও নমনীয়তা দেওয়া হয়, স্থানচ্যুত শিক্ষার্থীদের ভর্তি থেকে শুরু করে সাবেক স্কুলভবন নিয়ে সিদ্ধান্ত পর্যন্ত, যাতে শিশু ও পরিবারকে সবার আগে রেখে আমরা এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারি।
সূত্র: লন্ডন কাউন্সিল