রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বিল নিয়ে এবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসেই মুখোমুখি দুই অবস্থান। ভারতের মতো রাশিয়ার বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর প্রস্তাব এসেছে আইনপ্রণেতাদের প্রস্তাবিত এক সংশোধনীতে। আরেক সংশোধনীতে আবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এমন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার পুরো ধারাটিই বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট’ গত মাসে মার্কিন সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিপুল সমর্থনে পাস হয়। বিলটিতে শুধু রাশিয়ার নেতৃত্ব ও জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাবই নেই, মস্কোকে তেল সরবরাহের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা জাহাজের ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের বাণিজ্য ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অর্থায়ন করছে। বিলটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাশিয়ার প্রধান তেল বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। এর মধ্যে চীন ও ভারতও রয়েছে।
৭ আগস্ট মার্কিন সিনেটে পাস হওয়া বিলে রাশিয়ার বাণিজ্যিক অংশীদারদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে পরিমাণের হিসাবে তেল ও গ্যাসের সবচেয়ে বড় পাঁচ আমদানিকারকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিলটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানোর আগে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হতে হবে। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা আগাম অবকাশে যাওয়ার আগে আর মাত্র চার কর্মদিবস সময় রয়েছে।
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান স্টেনি হোয়ারের উত্থাপিত সংশোধনীতে চীন, ভারত, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাক প্রজাতন্ত্র, ইউএই, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজ প্রজাতন্ত্রকে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের আওতাভুক্ত দেশ হিসেবে উল্লেখ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তবে আরেকটি বিষয়ও বেশ উল্লেখযোগ্য। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিকস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আরও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার ঘোর বিরোধী। তিনি বিলটির ১১৩ নম্বর পুরো ধারাটিই বাদ দেওয়ার জন্য একটি সংশোধনী এনেছেন। এই ধারায় রাশিয়ার বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর ব্যাপক হারে দ্বিতীয় পর্যায়ের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রতিনিধি পরিষদের রুলস কমিটি সোমবার রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত বিলের সংশোধনীগুলো প্রকাশ্যে আনে।
মিকসের আরেকটি সংশোধনীতে কোনো বিদেশি ব্যক্তির ওপর প্রযোজ্য নিষেধাজ্ঞা ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যাবশ্যক’ হলে ওই স্থগিতাদেশ আরও ৯০ দিনের জন্য নবায়ন করা যাবে।
এ ছাড়া ইউক্রেনকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সেবা কেনার অর্থায়নে সরাসরি ১৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার অনুমোদন চেয়ে আরেকটি সংশোধনীও এনেছেন মিকস।
সূত্র: দ্য হিন্দু