Image description
১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। এ বছর ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে ভারত। তাই দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রাজিল, রাশিয়া, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের পাশাপাশি অন্যান্য অংশীদার দেশের নেতাদেরও স্বাগত জানাবেন।
 
সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে। তবে সম্মেলনকে ঘিরে দিল্লির বিলাসবহুল হোটেলগুলোতেও চলছে নানা প্রস্তুতি। এসব হোটেলেই সম্মেলনে আসা প্রতিনিধিরা অবস্থান করবেন। আন্তর্জাতিক অতিথিদের জন্য বিশেষ আতিথেয়তার পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন ধরনের খাবারের পছন্দের কথা বিবেচনা করে মেনু তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অতিথিদের ভারতীয় খাবারের স্বাদও তুলে ধরার প্রস্তুতি নিয়েছে শহরের শীর্ষ হোটেলগুলো।
 
ব্রিকসের প্রতিনিধিদের আতিথেয়তার প্রস্তুতি নেয়া তিনটি হোটেল—দ্য লীলা প্যালেস, তাজমহল ও দ্য ললিতের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বিশেষ মেনুতে কী থাকছে।
 
তাজমহল, নয়াদিল্লি
তাজমহল হোটেলে ব্রিকসের প্রতিনিধিদের জন্য থাকছে ‘ট্র্যাডিশন টু টেবিল’। তাজের শেফদের তৈরি এই খাবারের সংগ্রহের রেসিপিগুলো তাদের শৈশবের সবচেয়ে প্রভাবশালী রন্ধনশিক্ষক—তাদের মায়েদের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত। এর মাধ্যমে ভারতীয় আতিথেয়তার চেতনা এবং দেশটির রান্নার ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে।
 
এই সংগ্রহে এমন কিছু রেসিপি রয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে শেফদের ব্যক্তিগত স্মৃতি ও সম্পর্ক রয়েছে এবং যেসব খাবার তারা ছোটবেলা থেকেই খেয়ে বড় হয়েছেন।
 
এ ছাড়া ভারতের ছয়টি অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী কিছু নোনতা খাবারও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, কাশ্মীরের মসলাদার আখরোট, পুরানি দিল্লির ময়দা কাজু, মহারাষ্ট্রের ভাকারওয়াড়ি, রাজস্থানের মিনি কচুরি, বাংলার কুচো নিমকি এবং তামিলনাড়ুর মুরুক্কু।
 
এই খাবারগুলোর মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের স্বতন্ত্র উপকরণ, স্বাদ, গঠন ও রান্নার বৈচিত্র্য তুলে ধরা হবে।
 
তাজমহল, নয়াদিল্লির এরিয়া ডিরেক্টর-অপারেশনস ও জেনারেল ম্যানেজার ড. অনমোল আহলুওয়ালিয়া বলেন, প্রায় পাঁচ দশক ধরে তাজমহল, নয়াদিল্লি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, কূটনীতিক ও বিশিষ্ট নেতাদের স্বাগত জানানোর সুযোগ পেয়ে আসছে। ভারতের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় খাবারের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে এই স্মারকটি তৈরি করা হয়েছে। এটি তাজের আতিথেয়তার উষ্ণতা, যত্ন এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগের চেতনাকে তুলে ধরে।
 
দ্য লীলা প্যালেস, নয়াদিল্লি
২০২৬ সালের ব্রিকস সম্মেলনে আসা প্রতিনিধিদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করেছে দ্য লীলা প্যালেস, নয়াদিল্লি। দেশের ঐতিহ্যকে আধুনিক ভাবনার সঙ্গে মিলিয়ে এই খাবারের আয়োজন করা হয়েছে।
 
এর অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে খাওয়ার উপযোগী হাতে তৈরি একটি বিশেষ পদ্মফুল। ভারতের জাতীয় ফুল পদ্মের বিভিন্ন প্রতীকী অর্থের কারণে এটিকে বেছে নেয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ব্রিকসের ভারতীয় আয়োজনের পরিচিতিতেও পদ্মের প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দ্য লীলার নিজস্ব পথচলার সঙ্গেও পদ্মের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।
 
গোলাপ, জাফরান ও এলাচ দিয়ে তৈরি এই পদ্মের সঙ্গে দেয়া হয়েছে দেশীয় ভারতীয় ফল। এর মাধ্যমে ভারতের ঐতিহ্য, প্রতীকী অর্থ ও কারুশিল্পকে একটি বিশেষ খাবারের মধ্যে তুলে ধরা হয়েছে।
 
দ্য লীলা প্যালেস, নয়াদিল্লির এক্সিকিউটিভ শেফ করণ ঠাকুর বলেন, প্রাসাদের রান্নাঘরের দল অতিথিদের পছন্দের কিছু বিশেষ খাবারও তৈরি করছে। এসব খাবার অতিথিরা পছন্দ করেন এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রতিনিধিরাও এগুলোর প্রশংসা করেছেন।
 
এর পাশাপাশি থাকছে ‘অওজস্যা বাই দ্য লীলা’র মিলেট কুকিজ, হাতে তৈরি গ্র্যানোলা বার এবং ওয়েলনেস ইনফিউশন। ভারতীয় উপকরণের সমৃদ্ধির সঙ্গে খাবারের আরও আধুনিক ধারণাকে একত্র করা হয়েছে এসব আয়োজনে।
 
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অতিথিদের ভারতের একটি পরিশীলিত, স্বতন্ত্র এবং দেশটির ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত অভিজ্ঞতা দিতে মেনুর প্রতিটি বিষয় ভেবেচিন্তে নির্বাচন করা হয়েছে। এটি দ্য লীলার আতিথেয়তার দর্শনের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
 
দ্য ললিত, নয়াদিল্লি
ব্রিকস সম্মেলনের জন্য বিশেষ মেনু তৈরি করেছে দ্য ললিত। ভারতের সমৃদ্ধ আঞ্চলিক খাবারের ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি সম্মেলনের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এতে কিছু সূক্ষ্ম আন্তর্জাতিক প্রভাবও রাখা হয়েছে।
 
মেনুটি প্রচলিত ভোজের খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এতে ‘গালৌটি কাবাব ও তন্দুরে তৈরি রুটির’ মতো ঐতিহ্যবাহী খাবারের পরিশীলিত পরিবেশনের পাশাপাশি থাকছে ‘মিলেট-ভিত্তিক বিভিন্ন খাবার’। এর মাধ্যমে ভারতের পুষ্টিকর খাবারের ঐতিহ্য এবং আধুনিক রান্নার সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে।
 
শেফরা আরও কয়েকটি বিশেষ খাবার তৈরি করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে মিসো পেস্ট দিয়ে রান্না করা বেগুন, সিমার করা চাইনিজ বাঁধাকপি এবং অ্যাম্বার সসের সঙ্গে জাপানি স্টাইলে তৈরি মিষ্টি রাজমা।
 
দ্য ললিত, নয়াদিল্লির জেনারেল ম্যানেজার বিশাল শর্মা বলেন, ‘এই বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে ভারতীয় আতিথেয়তার উষ্ণতা ও বৈশিষ্ট্য ধরে রেখে বিভিন্ন ধরনের খাবারের প্রভাবকে একই টেবিলে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এই মেনুটি আমাদের রান্নার দলের জন্য সত্যিকারের আগ্রহ ও নিষ্ঠার একটি কাজ। এটি দ্য ললিতের যে দর্শন—উষ্ণ, মর্যাদাপূর্ণ এবং নিঃসন্দেহে ভারতীয় আতিথেয়তা—তা তুলে ধরে।’