Image description

যৌন নিপীড়ন মামলায় আবারো হেরে গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লেখক, গবেষক ও টিভি উপস্থাপক ই. জিন ক্যারল মামলায় ৫০ লাখ ডলারের রায় বাতিলে ট্রাম্পের প্রচেষ্টা আবারও প্রত্যাখ্যান করল সুপ্রিম কোর্ট। এর আগে মানহানি মামলায় ট্রাম্পকে ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরন দেবার জন্য জুরিবোর্ড রায় দিয়েছিল। ট্রাম্প জুরির দেয়া এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টে আপীল করে। সোমবার ১৭ আগষ্ট আদালত ট্রাম্পের এই আবেদন প্রত্যাখান করে। শুধু তাই নয়, জুরিদের দেয়া আগের সর্বসম্মত রায়ই এখন চূড়ান্ত। আর কোন আদালতেই তা আর চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন না ট্রাম্প।

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিউ ইয়র্ক সিটির একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে লেখিকা ই. জিন ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন এবং পরবর্তীতে মানহানি করায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই মামলা করেছিলেন। জুরির দেওয়া ৫০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরনের রায় বাতিলের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টা সোমবার আবারও প্রত্যাখ্যান করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আইনজীবীরা আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, প্রেসিডেনসিয়াল ইমিউনিটিতে যেন তার আপিলটি বিবেচনা করা হয়। আদালত ট্রাম্পের এই আবেদনসহ আরও কয়েকটি আবেদন খারিজ করে দেয়।

ট্রাম্প ও বিচার বিভাগ উচ্চ আদালতের কাছে ক্যারল সংক্রান্ত দ্বিতীয় আরেকটি রায়, যার মোট পরিমাণ ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার, বাতিল করারও আবেদন জানিয়েছে। তাদের যুক্তি হলো, ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ক্যারল সম্পর্কে যেসব মন্তব্য তিনি করেছিলেন, তার জন্য তার বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে তিনি দায়মুক্তি পাওয়ার যোগ্য। আদালত সেই আপিলের বিষয়ে এখনও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

ক্যারল একজন পরামর্শ কলাম লেখক এবং সাবেক টিভি টকশো উপস্থাপিকা। ২০২৩ সালের এক বিচারে তিনি সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, নব্বইয়ের দশকে ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারের ঠিক উল্টো দিকের বিলাসবহুল বিপণিবিতান 'বার্গডর্ফ গুডম্যান'-এর ড্রেসিং রুমে ট্রাম্প তাদের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ একটি সাক্ষাৎকে সহিংস আক্রমণে (যৌন নিপীড়ন) রূপ দিয়েছিলেন।

ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা কাপলান জানিয়েছেন যে, সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তে তারা সন্তুষ্ট। এক বিবৃতিতে কাপলান বলেন, “এর ফলে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ই. জিন ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন ও পরবর্তীতে মানহানি করেছেন—জুরিদের সেই সর্বসম্মত রায় এখন চূড়ান্ত এবং কোনো আদালতেই তা আর চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।” অবশ্য ট্রাম্প প্রথম থেকেই এ ধরনের অপকর্মের কথা অস্বীকার করে আসছেন।নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আদালতের এই রায়ে দলটিকে চরম খেসারত দিতে হবে বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।