Image description

ইরানের সঙ্গে টানা পাঁচ মাসের যুদ্ধে নিজেদের দূরপাল্লার নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রের বড় একটি অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে দেশটির সামরিক প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ সংঘাত মোকাবিলায় সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বিষয়টি সামনে এসেছে।

 

বিষয়টি সম্পর্কে পরিচিত সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, মার্কিন বাহিনী তাদের ভূগর্ভ থেকে ভূগর্ভে নিক্ষেপযোগ্য ‘এটিএসিএমএস’ ও নতুন প্রজন্মের ‘পিআরএসএম’ দূরপাল্লার অস্ত্রাগারের প্রায় পুরোটাই শেষ করে ফেলেছে।

 

প্রতিটির দাম ১০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের এসব ক্ষেপণাস্ত্র নিরাপদ দূরত্ব থেকে শত্রুর লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানতে অত্যন্ত কার্যকর। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সামরিক এই ঘাটতি চীন বা রাশিয়ার মতো পরাশক্তিগুলোকে ঠেকানোর মার্কিন সক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

 

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন দাবি অস্বীকার করে জানান, আমেরিকার কাছে প্রয়োজনের চেয়েও বেশি অস্ত্র ও সরঞ্জাম মজুত রয়েছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন রেকর্ড পরিমাণে যুদ্ধাস্ত্র উৎপাদন করছে বলেও জানান তিনি।

 

 

অন্যদিকে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানান, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অভিযান চালাতে মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

 

অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে সতর্কবার্তা

প্রতিবেদনে বলা হয়, পাইলটদের ঝুঁকিতে না ফেলে নিরাপদে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে যুক্তরাষ্ট্র দূরপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কৌশল বেছে নিয়েছিল।

 

সিএসআইএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন পিআরএসএম ক্ষেপণাস্ত্রের প্রাথমিক মজুত কম ছিল, তবে ২০২৭ সালের জন্য বিপুল অর্ডারের কাজ চলছে।

 

 

অস্ত্র সংকটের কারণে ট্রাম্প ইরানে বড় আক্রমণ থেকে পিছিয়ে এসেছেন বলে খবর বের হলেও এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেন, মূলত উপসারগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর রাজনৈতিক চাপেই ওয়াশিংটন নতুন হামলা স্থগিত রেখেছে। এদিকে অনুমোদন ছাড়া ট্রাম্পের এই যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসেও প্রশ্ন উঠেছে।

 

প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের মজুতও হ্রাস পেয়েছে

প্রতিবেদন অনুযায়ী কেবল আক্রমণাত্মক নয়, প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের মজুতও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। সিএসআইএস-এর তথ্য মতে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং ‘থাড’ ব্যালিস্টিক মিসাইল ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৩৮ শতাংশ ব্যবহৃত হয়েছে।

 

এর বাইরে মার্কিন নৌবাহিনী বৈশ্বিক মজুতে থাকা তাদের শক্তিশালী ‘টমাহক’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি ব্যবহার করে ফেলেছে। সামরিক মজুত পুনর্গঠনের লক্ষ্যে পেন্টাগন ইতোমধ্যে রায়থনসহ বিভিন্ন অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদন চুক্তি শুরু করেছে।