ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ওয়াশিংটনে সাক্ষাৎ করায় লেবাননের প্রভাবশালী ব্যাংকার আন্তুন সেহনাউইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন একদল আইনজীবী। লেবাননের আইন লঙ্ঘন করে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করার অপরাধে বুধবার অন্তত এক ডজনেরও বেশি আইনজীবী যৌথভাবে এই আইনি পদক্ষেপ নেন।
লেবানন ও ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৪৭ সাল থেকেই যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। ১৯৫৫ সালে পাস হওয়া লেবাননের কঠোর আইন অনুযায়ী, কোনো লেবাননের নাগরিক কোনো ইসরাইলি বা ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা ব্যবসায়িক চুক্তি করতে পারেন না। এই আইন অমান্যকারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ রাষ্ট্রদ্রোহিতার শাস্তির বিধান রয়েছে।
যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনি পদক্ষেপ
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর সাংবাদিক বারাক রাভিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি ছবি প্রকাশ করেন। ছবিতে দেখা যায়, ব্যাংকার আন্তুন সেহনাউই একটি রেস্তোরাঁর টেবিলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুর সঙ্গে বসে আছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের স্মরণে সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি মরগান অর্টাগাস ও সেহনাউইর যৌথ আয়োজনে সোমবার এক নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নেতানিয়াহু এবং একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেহনাউই সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ‘দিস ইজ বৈরুত’-এও এই নৈশভোজের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
আইনজীবী ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
অভিযোগ দায়েরকারী লেবাননের আইনজীবীদের মধ্যে হাসান বাজ্জি বলেন, ‘ইসরাইলি বাহিনী যখন লিবাননে হামলা চালিয়ে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করছে, ঠিক তখনই সেহনাউই শত্রুপক্ষের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে জাতীয় অনুভূতিকে আঘাত করেছেন এবং দেশের আইন ভেঙেছেন।’
অন্যতম আইনজীবী মোহাম্মদ হাজ হাসান এই সাক্ষাৎকে একটি ‘প্রকাশ্য অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এখন বিচার বিভাগ মামলাটির তদন্ত শুরু করবে এবং সেহনাউইর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হতে পারে। আইনজীবীরা প্রসিকিউটরের দপ্তর থেকে দ্রুত ও কার্যকর আইনি পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন।
প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে সেহনাউইর বিরুদ্ধে সরাসরি ‘ইসরাইলি শত্রুর সাথে যোগাযোগ, ইসরায়েল বয়কট আইন লঙ্ঘন, রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার’ অভিযোগ আনা হয়েছে।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
আন্তুন সেহনাউই লেবাননের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যাংকার এবং গণমাধ্যম ও বিনোদন জগতের ব্যবসায়ী। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। ২০১৯ সালে লিবাননে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অর্থনৈতিক ধসের পর থেকে তিনি ও তার ব্যাংক সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন।
বর্তমানে লেবানন ও ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত তিন মাস ধরে কূটনৈতিক আলোচনা চালাচ্ছে, যেন হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটে। লিবাননে চলমান এই সংঘর্ষে ইতোমধ্যে ৪,০০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ইসরাইলি বাহিনী লেবাননের একাধিক সীমান্ত গ্রাম দখল করে রেখেছে।
প্রসিকিউটর দপ্তর কীভাবে এই আইনি নোটিশের মুখোমুখি হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়, তবে অতীতে বিদেশে থাকা লেবাননের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অপরাধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নজির রয়েছে। লেবানন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
সূত্র: আল-আরাবিয়্যা