Image description

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চলছে কয়েক মাস ধরেই। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় সংঘাত তীব্রতা পৌঁছেছে এক নতুন পর্যায়ে। বৃহষ্পতিবার রাতে প্রথমবারের মতো ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও জাতীয় গ্রিডে আঘাত হানে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের লক্ষ্য এখন আর শুধু সামরিক ঘাঁটি নয়, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনও। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণাঞ্চলের নাগরিকদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে ব্যস্ত সময়ে এক ঘণ্টার জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র বন্ধ রাখার অনুরোধও করেছে সরকার। রয়টার্স ,সিএনএন ,বিবিসি।

আধুনিক জীবনের অন্যতম প্রধান ভরসা বিদ্যুৎ। ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, যোগাযোগ, শিল্পকারখানা, পানি সরবরাহ থেকে শুরু করে জরুরি সেবা—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু  এ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এমন সময়েই আঘাতের মুখে পড়েছে যখন এখন ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করছে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে । ফলে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

ইরানের জ্বালানি মন্ত্রণালয় আজ জানিয়েছে, সর্বশেষ মার্কিন বিমান হামলায় দেশের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, সঞ্চালন লাইন নাকি অন্য কোনো স্থাপনা আঘাতের শিকার হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি তারা। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ইতোমধ্যে আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করেছে  ইরানের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

মার্কিন হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালির কাছে কিশ দ্বীপ। দ্বীপটির প্রধান বিদ্যুৎ ও পানি উৎপাদন কেন্দ্রের কাছাকাছি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কয়েকটি ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইরান জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির একমাত্র বেসামরিক বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানা ও আশপাশের এলাকাতেও একাধিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে মূল পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর অক্ষত ও সচল রয়েছে বলে দাবি তেহরানের।

এর আগে ১৪ জুলাই ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। সর্বশেষ হামলার পর সেই হুমকির বাস্তব প্রতিফলনই দেখছে বিশ্লেষকেরা।

ইরানের পাল্টা জবাব

পাল্টা জবাবে কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সমুদ্রের পানিশোধনাগার কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে আগুন ধরে যায় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের একাধিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে দমকল বাহিনী। ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিট সচল করতে কাজ শুরু করেছে কারিগরি দল। একই সঙ্গে নাগরিকদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছে কুয়েত সরকারও।প্রাকৃতিক মিঠাপানির তীব্র সংকটে থাকা কুয়েতে সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। এছাড়া কুয়েতের তাপমাত্রাও বর্তমানে ইরানের মতোই ৪০ ডিগ্রির আশেপাশে। যুদ্ধের শুরুতে লক্ষ্য ছিল সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র ও প্রতিরক্ষা স্থাপনা। এখন সেই সংঘাত পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু যুদ্ধের তীব্রতাই বাড়াচ্ছে না; মধ্যপ্রাচ্যের কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।