ষষ্ঠ দিনে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই দিনে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সাতটি সেতুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে ধ্বংস করে দিয়েছে ওমান উপসাগরের তীরে দেশটির চাবাহার বন্দরের পর্যবেক্ষণ টাওয়ারও। এবারের আক্রমণের মূল লক্ষ্যবস্তুই হয়ে উঠেছে উপকূলীয় শহর ‘বন্দর আব্বাস’। হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সরু অংশে অবস্থিত এ অঞ্চলেই ইরানের নৌবাহিনীর সদর দপ্তর ও প্রধান ঘাঁটি। বন্দরটি আফগানিস্তানের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ।
হামলার পর বন্দর খামিরের বিধ্বস্ত সেতুর ক্ষয়ক্ষতি দেখতে ছুটে এসেছেন স্থানীয়রা
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে দেশটির সাতটি সেতু ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে। খামির কাউন্টিতে কাহুরেস্তান সেতু, বন্দর আব্বাস-হামির-লার সড়কের গেরিভেহ সেতু; বন্দর আব্বাস থেকে হামির ও লার হয়ে ফেরার পথে লাতিদান গ্রামের পরের সেতুটি (কালামতালি); ‘বন্দর হামির-কেশার-বন্দর আব্বাস’ সড়কের একটি অসমাপ্ত সেতু ও খামির কাউন্টির মারু গ্রামের সেতু ও কাহুরেস্তান-লার সড়কে দুটি সেতু। এ হামলায় ৮ জন নিহত হয়েছে বলেও জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।
১৪ জুলাই ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমরা তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র অকেজো করে দেব। আলোচনার টেবিলে না বসলে সব সেতুও ধ্বংস করে দেব।‘ ওই হুমকির পরই ভয়াবহ এ হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভেঙে পড়েছে চাবাহার বন্দররের পর্যবেক্ষন টাওয়ার।গুরুত্বপূর্ণ সেতুর পাশাপাশি হামলা চালানো হয়েছে চাবাহার বন্দরে অবস্থিত ‘পর্যবেক্ষণ টাওয়ারেও’। দুই দেশের সংঘাত চলাকালে এ বন্দরেই বারবার হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তার এক্সে গতকাল একটি টাওয়ার ধসে পড়ার ছবি শেয়ার করেছেন। ক্যাপশন দেন, ‘ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ করে না।‘ ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ওই স্থাপনায় তৃতীয় দফার হামলার কথা স্বীকার করলেও তাৎক্ষণিকভাবে টাওয়ারটি ধসে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে ইরানের বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যবেক্ষণ টাওয়ারটি মূলত একটি বেসামরিক স্থাপনা ছিল। এটি সমুদ্রে জেলেদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হতো।
পেন্টাগন ও মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, এই পর্যবেক্ষণ টাওয়ারটি শুধু বাণিজ্যিক কাজের জন্য নয়, বরং সামুদ্রিক নজরদারির কাজে ব্যবহার করত ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।