Image description

ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য কুমিরবেষ্টিত একটি উচ্চ-নিরাপত্তা কারাগার নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষ (আইপিএস)সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন ও ব্যয় নিরূপণের মাধ্যমে পরীক্ষা করছে বলে হিব্রু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বেন-গভির এই পরিকল্পনাকে ‘অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ’ নাম দিয়েছেন। এই পরিকল্পনাটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার এভারগ্লেডস জলাভূমি অঞ্চলের একটি কারাগার থেকে অনুপ্রাণিত বলে জানিয়েছেন তিনি, যেখানে প্রাকৃতিকভাবে অ্যালিগেটরের (এক প্রজাতির কুমির) উপস্থিতি রয়েছে।

প্রতিবেদন মতে, আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) ইসরাইলের পরিবেশ সুরক্ষামন্ত্রী ইদিত সিলমান নীল নদের কুমিরকে ‘তত্ত্বাবধানে থাকা বন্য প্রাণী’ হিসেবে পুনঃশ্রেণিবদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে কারাগার প্রাঙ্গণে পরীক্ষামূলকভাবে কুমির রাখার পথ উন্মুক্ত হবে।

হিব্রু গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর ইসরাইলের অধিকৃত গোলান মালভূমির হামাত গাদের এলাকায় এই কারাগার নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এলাকাটিতে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি কুমির নিয়ে এই অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ কুমির খামার রয়েছে।

গত ১ জানুয়ারি ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষ আইপিএসের উপ-কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল হামাত গাদের কুমির খামার পরিদর্শন করে। তারা কুমির পালন, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, শীতকালীন আচরণ, নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন।

হামাত গাদেরের প্রধান নির্বাহী ইয়োসি মুসানেজাদ জানান, এটি ছিল একটি ‘শিক্ষামূলক সফর’। তিনি বলেন, ‘খাঁচায় কুমির পালন মোটেও সহজ নয়। এটি কোনো পোষা কুকুর নয়। এর জন্য বিশেষ যত্ন, পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন।’

বেন-গভির দাবি করেছেন, এই ব্যবস্থা নিরাপত্তা জোরদার ও পালানোর ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে ব্যয়-সাশ্রয়ী হবে। তিনি বলেন, ‘একটি ছোট কুমিরের দাম প্রায় ৮ হাজার ডলার এবং বড় কুমিরের দাম প্রায় ২০ হাজার ডলার। প্রয়োজনীয় যে বাজেট লাগবে, আমি তা দিতে প্রস্তুত।’

তবে প্রস্তাবটি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থা বিতসেলেম-এর চেয়ারম্যান অরলি নয় একে ‘ইসরাইলের বর্তমান নীতির আরেকটি ভয়াবহ ও বিকৃত উদাহরণ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার ভাষায়, ‘ন্যায়বিচারের পথ বেছে নেওয়ার আগে কর্তৃপক্ষ যেন সব ধরনের অমানবিক উপায়ই চেষ্টা করতে প্রস্তুত।’

এই প্রস্তাবকে ঘিরে ইসরাইলের কারা নীতি এবং ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি আচরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

শীর্ষনিউজ/