Image description

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কখনোই রেজা পাহলভিকে ইরানের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়ে এগোননি। মঙ্গলবার এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কাঠামোগত চুক্তিকে বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি উদ্যোগের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

ইউটিউবে মেগিন কেলিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কখনো বলেননি যে তার লক্ষ্য রেজা পাহলভিকে ইরানের নতুন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।’

তিনি আরও বললেন, ‘তিনি বলেছেন, যদি ইরানের জনগণ বিদ্রোহ করতে চায়, সেটা ভালো। কিন্তু সেটি তাদের বিষয়, তাদের এবং তাদের সরকারের মধ্যকার ব্যাপার।’

 

ভ্যান্স জানালেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, ‘হোক তা কূটনৈতিক উপায়ে বা সামরিক উপায়ে’, এবং শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প সেই পথেই এগিয়েছেন।

ভাইস প্রেসিডেন্ট এই চুক্তিকে ‘একটি আঞ্চলিক শান্তি চুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা শুধু ইরান নয়, উপসাগরীয় দেশগুলো, ইসরায়েল এবং লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করবে।

তিনি বললেন, ‘মূল ধারণা হলো, ইরান যদি চুক্তি মেনে চলে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য এটি হবে সত্যিকারের পরিবর্তন আনা একটি চুক্তি। আর যদি না মেনে চলে, তাহলে কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে না তারা।’

ভ্যান্স এই চুক্তির সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী মার্শাল পরিকল্পনার তুলনাও প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি জানান, দুটির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে অন্তত দুটি।

তার ভাষায়, ‘প্রথমত, মার্শাল পরিকল্পনা ছিল মার্কিন করদাতাদের বিপুল অর্থের ওপর ভিত্তি করে। এটি তেমন নয়। দ্বিতীয়ত, আমরা বলছি, আপনারা আচরণ পরিবর্তন করলেই শুধু এই চুক্তির সুবিধা পাবেন।’

 

তিনি উল্লেখ করেন, ‘যদি তারা চুক্তির সুবিধা চায়, তাহলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি আলোচনায় থাকবে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, যাচাই-বাছাই ও পরিদর্শন ব্যবস্থাও আলোচনার অংশ হবে।’

 

রবিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইলেকট্রনিকভাবে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এতে সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সঙ্গে সম্পর্কিত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার ভিত্তি তৈরির বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

এদিকে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের পূর্ণ পাঠ প্রকাশ করবেন। একই সঙ্গে একটি সংবাদ সম্মেলন করে দলিলটি ‘পঙ্খানুপুঙ্খভাবে’ পড়ে শোনাবেন বলেও জানান তিনি।