বিশ্বকাপ শুরুর আগে নতুন বিতর্কে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচিত সোমালি রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতানকে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে সোমালিয়ার ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
আরতান এবার ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় ছিলেন। বিশ্বকাপের মূল পর্বে দায়িত্ব পাওয়া প্রথম সোমালি রেফারি হতে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে আপাতত বড় ধাক্কা এসেছে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায়।
সোমালিয়ার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং দেশটির সাবেক জাতীয় ফুটবল অধিনায়ক সিসে আদেন আবশির এএফপিকে জানিয়েছেন, আরতানের বৈধ মার্কিন ভিসা ছিল। এরপরও তাঁকে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে তিনি ইস্তাম্বুলে ফিরে গেছেন, যেখানে তিনি অবস্থান করছিলেন।
ঘটনার নির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে সোমালিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ভ্রমণ বিধিনিষেধের তালিকায় থাকা দেশগুলোর একটি। সেই প্রেক্ষাপটেই আরতানের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ আটকে যাওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও বড় ক্রীড়া ইভেন্টের অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রমের বিধানও রয়েছে।

আবশির আরতানের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, ওমর আরতান আফ্রিকার অন্যতম সম্মানিত রেফারি। তাঁর মতো একজন ম্যাচ অফিসিয়ালের প্রতি পুরো ফুটবল সম্প্রদায়ের সমর্থন থাকা উচিত। তাঁর মতে, আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না দেওয়া শুধু ব্যক্তিগতভাবে তাঁর ক্ষতি নয়, ফুটবলের ন্যায্যতা, যোগ্যতার মূল্যায়ন এবং ফেয়ার প্লের চেতনার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
আরতানকে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ফিফা ঘোষিত রেফারিদের তালিকায় রাখা হয়েছিল। ২০১৮ সাল থেকে তিনি ফিফা তালিকাভুক্ত রেফারি। সোমালিয়ার ঘরোয়া লিগে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আফ্রিকান ফুটবলের বড় মঞ্চেও তিনি পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০২৫ সালে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল তাঁকে বর্ষসেরা পুরুষ রেফারি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
সোমালিয়ার জন্য আরতানের বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া ছিল বড় গর্বের মুহূর্ত। দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদও এপ্রিলে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছিলেন, আরতান নতুন প্রজন্মের সোমালিদের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
এখন প্রশ্ন উঠছে, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে দায়িত্ব পাওয়া একজন রেফারির অংশগ্রহণ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো মিলিয়ে হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রে। ফলে ম্যাচ অফিসিয়াল, দল, সাপোর্ট স্টাফ ও সংশ্লিষ্টদের যাতায়াত নিয়ে এমন জটিলতা টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই অস্বস্তি তৈরি করছে।