তখন মাঝরাত। চারপাশের সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। বাড়ির ছাদে খোলা আকাশের নিচে শান্তিতে ঘুমাচ্ছিল চার সন্তান। কিন্তু পরিস্থিতি ছিল একদম ভিন্ন। উতপ্ত বাক্যবিনিময় আর সন্দেহের কালো মেঘে ঢাকা পড়েছে কর্মজীবী এক দম্পতির সংসার।
কর্মস্থল থেকে ঘরে ফিরেই স্বামী দেখতে পান, তার স্ত্রী ফোনে কারও সঙ্গে মশগুল হয়ে কথা বলছেন। প্রায়শ এমন দৃশ্য দেখেন স্বামী। তাই সন্দেহের দানা বাধে মনে। কার সঙ্গে কথা বলছেন, জানতে চাইলেও সদুত্তর পাননি।
কৌতূহল আর সন্দেহ দূর করতে চান স্ত্রীর ফোন। তাতেও বাদ সাধেন স্ত্রী। এতেছে চটে যান সদ্য অফিস থেকে ফেরা স্বামী। সন্দেহের বশে রাগের মাথায় পরনের স্কার্ফ দিয়েই স্ত্রীর গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
ঘটনাটি ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রামের আইএমটি মানেসরের বান্স আলিয়ার গ্রামের।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বুধবার (৩ জুন) মধ্যরাতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। নিহত নারীর নাম কাজল দেবী (৩৬)। এই ঘটনায় শুক্রবার অভিযুক্ত স্বামী নরেন্দ্র সিংকে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছে গুরুগ্রাম পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নরেন্দ্র সিং মূলত উত্তর প্রদেশের মথুরা জেলার নাংলা দাওদার বাসিন্দা। তিনি ও তার স্ত্রী কাজল দেবী গুরুগ্রামের আইএমটি মানেসরের বান্স আলিয়ার গ্রামে চার সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই স্থানীয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রতিদিনের মতো কাজল দেবী রাত ৮টায় কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরলেও নরেন্দ্র সিং ফিরতেন মঝরাতে। ঘটনার দিনও রাতে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে ফোনে কথা বলতে দেখে নরেন্দ্রর মনে সন্দেহ জাগে যে, কাজল অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে কথা বলছেন। আগেও এমন দৃশ্য দেখেছেন তিনি। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ নরেন্দ্র কাজলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
গুরুগ্রাম পুলিশের একজন মুখপাত্র জানান, হত্যাকাণ্ডের শিকার কাজল দেবীর বোনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইএমটি মানেসার থানায় একটি হত্যা মামলা (এফআইআর) দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকা অভিযুক্ত স্বামীকে শুক্রবার বান্স আলিয়ার গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নরেন্দ্র তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত স্কার্ফটি ইতোমধ্যে আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।