Image description

নিট (NEET) কেলেঙ্কারিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। শনিবারের এই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে স্রেফ ‘ট্রেলর’ বা মহড়া উল্লেখ করে আগামী সাত দিনের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে সংগঠনটি। এই সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাকে না সরালে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিজেপি । তরুণদের স্বতস্ফূর্ত এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন ভারতের বিরোধী শিবিরের রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বলিউডের বেশ কয়েকজন অভিনেতা-অভিনেতী ও প্রযোজকরা। সংহতি জানানো এ তালিকায় আছেন শিব সেনার প্রভাবশালী এক নেতাও।

শনিবার (৬ জুন) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিল্লির যন্তরমন্তরে এই শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভ চলে। কর্মসূচিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও তরুণ চাকরিজীবীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিক্ষোভ চলাকালীন সমর্থকদের উদ্দেশে অভিজিৎ দীপক বলেন, ‘ওরা বলেছিল আরশোলারা রাস্তায় নামবে না। আজকের সমাবেশ প্রমাণ করেছে আমরা জীবিত। সরকারের কাছে আমরা কীটপতঙ্গ হতে পারি, কিন্তু নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করতে পারি।’

এর আগে কর্মসূচির অনুমতি নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে সমর্থকদের প্রথমে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় জড়ো হতে বলা হয়েছিল। পরে দিল্লি পুলিশ যন্তরমন্তরে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিলে আন্দোলনকারীরা সেখানেই অবস্থান নেন। অভিজিতের আহ্বান মেনে সমর্থকেরা হাতে বই ও জাতীয় পতাকা নিয়ে শান্তপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানান। বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর সময় খোদ অভিজিতের হাতে ছিল বিআর আম্বেডকরের আত্মজীবনী। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সমাবেশস্থলে এক হাজারের বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল।

যন্তরমন্তরের এই বিক্ষোভ নিয়ে তীব্র পাল্টা কটাক্ষ করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। তিনি বলেন, ‘বিদেশে বসে কিছু লোক ভাবছেন ভারতীয় যুবসমাজকে নির্দেশ দেবেন। ভারতের যুবসমাজ কৃষকদের সঙ্গে গ্রামে বাস করে, কোচিং ইনস্টিটিউটে থাকে, কলেজ ক্যাম্পাসে থাকে। দিল্লিতে বসে থাকা মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতের পুতুল হয়ে ভারতের যুবসমাজ কখনও এগোবে না।’

তবে ক্ষমতাসীনরা বিদ্রুপ করলেও অনলাইন স্যাটায়ার মুভমেন্ট বা ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে শুরু হওয়া ‘আরশোলা পার্টি’র এই প্রথম প্রকাশ্য কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছেন দেশের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও সমাজকর্মী। বিখ্যাত পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক স্বশরীরে এই কর্মসূচিতে যোগ দেন।  

আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।’ শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরেও আরশোলাদের পাশে দাঁড়িয়ে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন, ‘নিট প্রশ্ন ফাঁসে যুব সমাজের অনেক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। সরকারকে ওঁদের কথা শুনতেই হবে। আরশোলাদের অবজ্ঞা করা ঠিক হবে না। এটা কিন্তু সতর্ক হওয়ার বার্তা।’

আন্দোলনে বলিউডের একাধিক তারকা সমর্থন জানালেও বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন অভিনেত্রী রিচা চাড্ডা। বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে থাকলেও তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দেশের যুবসমাজের পাশে থাকার বার্তা দেন। রিচা বলেন, তার হৃদয় ভারতের তরুণদের সঙ্গেই রয়েছে। তিনি যুবসমাজকে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক হওয়ার আহ্বান জানান এবং শান্তিপূর্ণ ও সহানুভূতিশীলভাবে নিজেদের দাবি তুলে ধরার পরামর্শ দেন। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি শুধু প্রতিবাদকে সমর্থন করছেন না, বরং আন্দোলনের নৈতিক ও শান্তিপূর্ণ চরিত্র বজায় রাখার ওপরও জোর দিচ্ছেন।

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত একটি মামলার প্রেক্ষিতে মন্তব্য করেছিলেন যে, দেশের যুব সম্প্রদায়ের একাংশ কোথাও স্থান না পেয়ে সামাজিক মাধ্যমে ‘আরশোলা’ বা ‘পরজীবী’র মতো সিস্টেমকে আক্রমণ করে। প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যের প্রতিবাদে গত ১৬ মে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামক এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনের পথচলা শুরু হয়। 

মাত্র কয়েক দিনেই সমাজমাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয় হওয়া এই সংগঠনটিতে মাত্র ৩ দিনে ৭০ হাজার মানুষ যোগ দেন। যদিও প্রধান বিচারপতি পরে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন যে তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে, তবে যুবসমাজের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটল শনিবারের এই যন্তরমন্তরের বিক্ষোভে।