মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর ইসরায়েলের গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির আশঙ্কায় মিত্রদেশটিকে ‘চরম’ নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (৬ জুন) এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দুই বর্তমান এবং এক সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগনের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) সম্প্রতি একটি নতুন কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে। এই মূল্যায়নে, ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কৌশলগত আলোচনা ও নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত জানতে মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর ইসরায়েল অতিরিক্ত নজরদারি বাড়িয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ এই মূল্যায়নে সাত পৃষ্ঠার নথি ও চার্ট যুক্ত রয়েছে, যেখানে ইসরায়েলের হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স এবং প্রযুক্তিগত নজরদারি চালানোর ক্ষমতাকে ‘চরম স্তর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা জানান, যদিও বিশ্বজুড়ে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর একে অপরের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি চালানো নিয়মিত ঘটনা, তবে সম্প্রতি ইসরায়েলের এই তৎপরতা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ও অপ্রত্যাশিত।
সিএসআইএস থিংক ট্যাংকের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক এমিলি হার্ডিং এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা কী করছি তা জানতে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা সবসময় উদগ্রীব থাকে।’
এই নতুন গোয়েন্দা সতর্কতা এমন এক সময়ে এল যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে ইরান যুদ্ধ ও লেবানন সামরিক অভিযান নিয়ে গুরুতর মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি এক ফোনালাপে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলে অভিহিত করেছেন বলেও জানা গেছে। ট্রাম্প যেখানে কূটনীতিতে ইরান যুদ্ধের সমাধান খুঁজছেন, সেখানে নেতানিয়াহু পুনরায় বোমা হামলা শুরুর চাপ দিচ্ছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত ও রণকৌশল জানতে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের তৎপরতায় মার্কিন নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। তবে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন, এই সতর্কতার ফলে দুই দেশের চলমান গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বাধাগ্রস্ত হবে না।
ওয়াশিংটনের ইসরায়েলি দূতাবাসের মুখপাত্র এই দাবিগুলোকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিহিত করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠান বা কর্মকর্তাদের ওপর আমরা গোয়েন্দা নজরদারি চালাই না। আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা বন্ধুদের নয় বরং শত্রুদের বিরুদ্ধে।’
অন্যদিকে পেন্টাগন এবং ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।