ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত সীমিত থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। শনিবার (০৬ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের প্রধান সূচকগুলোতে বড় পতন দেখা যায়।
গালফ নিউজের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড তেলের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৫৪ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৯৪ ডলার কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ০৯ ডলারে দাঁড়ায়।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সীমিত সামরিক বিনিময়কে বাজার তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত সংঘাত হিসেবে দেখছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে, যা তেলের দামে পতনের প্রধান কারণ।
এদিকে মার্কিন নৌবাহিনী ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের আওতায় ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি সুপারট্যাংকার এম টি ডাভিনা জব্দ করেছে। প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই জাহাজটি ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, জাহাজটি ইরানি তেল পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে এটি জব্দ করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালেও জাহাজটি ইরানি তেল পরিবহনের কারণে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিল বলে জানানো হয়।
চলমান উত্তেজনার মধ্যেও বাজারে বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়নি। কারণ শুক্রবারের ঘটনা বড় পরিসরের সংঘাতে রূপ নেয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহে তাৎক্ষণিক বড় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তা বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে এখনো অস্থির করে রেখেছে। সংঘাত যদি তীব্র আকার নেয়, তাহলে তেলের দাম দ্রুত আবারও বাড়তে পারে।