যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত ১.৮ বিলিয়ন (১৮০ কোটি) ডলারের ‘অ্যান্টি-উইপনাইজেশন’ (রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বিরোধী) তহবিলকে সমর্থন দেওয়া, নাকি প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা, তা নিয়ে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান সিনেটরদের ভেতরেই তৈরি হয়েছে তীব্র বিভাজন।
শনিবার (৩০ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
এই তহবিলটি মূলত রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বলে দাবি করা ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য তৈরি করা হচ্ছে। তবে সমালোচকদের মতে, এটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক মিত্রদের সুবিধা দিতে পারে এবং স্বার্থের সংঘাতের (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এদিকে, সিনেটে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও অনেক সদস্যই বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায় আছেন। বিষয়টি নিয়ে মেমোরিয়াল ডে’র ছুটির আগে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চের সাথে দুই ঘণ্টার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে, ৫৩ জন রিপাবলিকান সিনেটরের প্রায় অর্ধেকই ট্রাম্পের এই বিতর্কিত ১৮০ কোটি ডলারের তহবিল নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলেন।
আইনপ্রণেতারা এই বিল নিয়ে আরও স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণের দাবি জানাচ্ছেন এবং কে এই অর্থ পাবে, কীভাবে পাবে এবং কাদের তত্ত্বাবধানে বিতরণ হবে এসব বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা চান তারা।সমালোচকদের আশঙ্কা, এই তহবিলের আওতায় ২০২১ সালের ক্যাপিটাল হিলের দাঙ্গায় জড়িত কিছু ট্রাম্প সমর্থকও সুবিধা পেতে পারে, যা রাজনৈতিকভাবে বিতর্ক আরও বাড়াতে পারে।
এরই মধ্যে এক ফেডারেল বিচারক সাময়িকভাবে এই তহবিল কার্যক্রম স্থগিত করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শীর্ষ রিপাবলিকান কৌশলী জানিয়েছেন, দলের নিরাপদ আসনে থাকা আইনপ্রণেতারাও এই তহবিলকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর মনে করছেন। ২০২৬ সালের আগামী নভেম্বর মাসে মার্কিন কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই মার্কিন বাজারে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, ইরানের সাথে চলমান একটি অপ্রিয় যুদ্ধ এবং খোদ রিপাবলিকানদের মধ্যেই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার পারদ নিচে নেমে যাওয়ার কারণে দলটি ব্যাকফুটে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটারদের ট্যাক্সের টাকায় ট্রাম্পের সহযোগীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি নির্বাচনে ‘গলার কাঁটা’ হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছে ট্রাম্পের সাবেক নির্বাচনি আইনজীবী জেমস ট্রুপিস এবং কলোরাডোর সাবেক নির্বাচনি কর্মকর্তা টিনা পিটার্সের মতো বিতর্কিত চরিত্রদের এই তহবিলের আওতায় আসার সম্ভাবনা। ২০২০ সালের নির্বাচন চুরির ভুয়া দাবি ও জালিয়াতির মামলায় অভিযুক্ত ট্রুপিস ইতোমধ্যেই ৩.২ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ চেয়ে আবেদন করেছেন।
সিনেটের জুডিশিয়ারি কমিটির চেয়ারম্যান চাক গ্রাসলি এবং নেব্রাস্কার প্রতিনিধি মাইক ফ্লাডের মতো প্রভাবশালী রিপাবলিকানরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কংগ্রেসের জোরালো তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা এই বিলে অন্ধভাবে সমর্থন দেবেন না। ফলে আগামী সপ্তাহে সিনেট খোলার পর ট্রাম্পের এই ফান্ড নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে নাটকীয়তা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, সিনেট নেতারা এখন হোয়াইট হাউস ও বিচার বিভাগের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছেন, যাতে তহবিল নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক সংকট এড়ানো
শীর্ষনিউজ