Image description

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দ্রুত উত্থান ও মাত্র কয়েক দিনেই লাখ লাখ অনুসারী পাওয়ার ঘটনায় আইনি জটিলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের মা-বাবার।

বোস্টন ইউনিভার্সিটির ছাত্র এবং পূর্বে আম আদমি পার্টির সঙ্গে যুক্ত থাকা অভিজিতের হাত ধরে মাত্র এক সপ্তাহ আগে যাত্রা শুরু করে ককরোচ পার্টি। এরই মধ্যে প্ল্যাটফর্মটি ইনস্টাগ্রামে ১ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি অনুসারী অর্জন করেছে। মূলত বেকারত্ব, শিক্ষা ও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্র, মিম এবং মন্তব্যের মাধ্যমে এটি দ্রুত তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।

তবে ছেলের এই তুমুল জনপ্রিয়তায় শঙ্কিত মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের বাসিন্দা ভাগবান ও অনিতা দিপক। তারা চান না তাদের সন্তান কোনোভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকুক।

অভিজিতের বাবা ভাগবান দিপক বলেন, আজকালকার রাজনীতি যে ধরনের, তাতে যত অনুসারীই থাকুক না কেন, ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। একটি সাক্ষাৎকারে সে নিজেই ভারতে ফেরার পর গ্রেফতার হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। আমরা সংবাদপত্রে এই ধরনের ঘটনার কথা প্রায়ই পড়ি।

জানা যায়, বিতর্কের সূত্রপাত হয় ভারতের প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে ঘিরে, যেখানে তিনি এক আইনজীবীকে তিরস্কার করতে গিয়ে ‘পরজীবী’ ও ‘তেলাপোকা’ শব্দ ব্যবহার করেছিলেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে তিনি স্পষ্ট করেন, তার মন্তব্যটি ভুয়া ও জাল ডিগ্রির মাধ্যমে পেশায় প্রবেশকারীদের উদ্দেশ্যে ছিল। তবে এই বিতর্কই ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম সিজেপি তৈরির পটভূমি তৈরি করে, যেখানে তেলাপোকাকে প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

ছেলের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এড়িয়ে ক্যারিয়ারে মনোযোগ দেওয়ার আশা প্রকাশ করে অভিজিতের মা অনিতা বলেন, আমরা শুধু চাই সে নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসুক। সে রাজনীতিতে থাকবে কি না তা তার সিদ্ধান্ত, তবে আমরা চাই না সে এটি করুক। আমি জানি না সে আমাদের কথা শুনবে কি না। আমি তাকে এই কাজে সমর্থন করব না। আমি তাকে নিয়ে চিন্তিত।

অনিতা জানান, অভিজিৎ প্রথমে ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে পড়াশোনা করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য পুনেতে যান। সেখানে ইঞ্জিনিয়ারিং কঠিন মনে হওয়ায় পরে তিনি গণমাধ্যম বিষয়ে পড়াশোনায় স্থানান্তরিত হন।

অন্যদিকে বাবা ভাগবান দিপক জানান, অভিজিতের বোন আগে থেকেই বিদেশে থাকায় তিনিও সাংবাদিকতা পড়ার জন্য দেশের বাইরে যান। তার আশা ছিল অভিজিৎ পুনে বা দিল্লিতে সাধারণ কোনও চাকরি করবেন।

প্রতিবেশীর মাধ্যমে প্রথম সিজেপি সম্পর্কে জানতে পারেন এই দম্পতি। অনিতা বলেন, পরে আমার এক নাতি জানায় যে, দেশের অনেক বড় বড় ব্যক্তিত্বের চেয়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার (অভিজিতের) অনুসারী বেশি। আগে সে আম আদমির সঙ্গে কাজ করেছিল। তখনও আমি তাকে বলেছিলাম আমরা রাজনীতির সাথে যুক্ত নই এবং তার চাকরি করা উচিত।

ছেলের আকস্মিক এই পরিচিতি ঘুম কেড়ে নিয়েছে বাবার। ভাগবান বলেন, সে এখন বিখ্যাত হয়ে গেছে, তাই আমি চিন্তিত। কারণ এই ধরনের ব্যক্তিরা গ্রেফতার হন। তার কী হতে পারে তা নিয়ে উদ্বেগে গত দুই রাত আমি ঘুমাতে পারিনি। আমি রাজনীতিকে ঘৃণা করি এবং এতে আমার কোনও আগ্রহ নেই।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া