Image description

কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকায় রবিবারের সংঘর্ষে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা আহত হওয়ার পর সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে তিনি সহিংসতা ও পাথর নিক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অধীনে কঠোরভাবে দমন করা হবে।

সংঘর্ষে আহত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জোয়ানদের সঙ্গে দেখা করার পর এক সংবাদ সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘কাশ্মীরে পাথর ছুড়ে মারা অনেক আগেই বন্ধ করা হয়েছে। বাংলাতেও সব ধরনের গুণ্ডামি ও উচ্ছৃঙ্খলতার অবসান ঘটতে চলেছে।’ এ সময় তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের কোনও ভয় বা রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই আইন অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশ দেন।

আগের দিনের সহিংসতাকে একটি ‘পূর্বপরিকল্পিত অপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করে মুখ্যমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘যদি আপনারা এই এলাকায় কোনও বেআইনি কাজ করে থাকেন, তবে ধরে নিন এটাই শেষবার। যদি আপনারা আবারও এমনটা করেন, তবে আমার চেয়ে বেশি নির্মম আর কোনও পুলিশমন্ত্রীকে পাবেন না।’

আইন কার্যকর করার সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের কোনও রাজনৈতিক বা ধর্মীয় প্রভাব বিবেচনা না করার আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কারও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, প্রভাবশালী যোগাযোগ বা ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আপনাদের চিন্তিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। আপনারা শুধু আপনাদের কাজটুকু করুন।’ এই কাজে পুলিশ কর্মকর্তাদের পেছনে রাজ্য সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উভয়েরই পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থা বা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন রাখার জন্য কেন্দ্রের কাছে অনুরোধ জানাবে রাজ্য সরকার। তিনি বলেন, ‘আমরা কেন্দ্রীয় সরকারকে এখানে ৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রেখে দেওয়ার অনুরোধ করব। তা না হলে আমাদের জনবলের ঘাটতি তৈরি হবে।’

 

জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের দেশপ্রেমের প্রশংসা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগে রাজনৈতিক চাপের কারণে এই বাহিনী কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেনি। তবে পরিস্থিতি এখন বদলাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ‘আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কলকাতা পুলিশ দেশের সেরা বাহিনীতে পরিণত হবে।’

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে