মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ইসরায়েলের নীলনকশা ফাঁস করেছেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ কোনো আকস্মিক উত্তেজনার ফল নয়। এটি মধ্যপ্রাচ্যকে নতুনভাবে গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি ইসরায়েলি পরিকল্পনার চূড়ান্ত পরিণতি।
সোমবার (১১ মে) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আল জাজিরার অনুষ্ঠান ‘আল মুকাবালায়’ সাক্ষাৎকারে শেখ হামাদ বলেন, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তৈরি হওয়া সংকটই সাম্প্রতিক যুদ্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফল। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ গঠনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য একটি যৌথ প্রতিরক্ষা জোট গঠনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমরা এখন পুরো অঞ্চলের বড় ধরনের পুনর্গঠনের সাক্ষী হচ্ছি। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন আগামী কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
শেখ হামাদ জানান, গত বছরই তিনি সম্ভাব্য সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন এবং সামরিক হামলা এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত উসকে দেওয়ার পেছনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ইসরায়েলের একটি ‘কট্টরপন্থী গোষ্ঠী’ কাজ করেছে। ১৯৯০–এর দশকে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আমল থেকেই নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করে আসছেন।
তিনি আরও বলেন, আগের মার্কিন প্রশাসনগুলো পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করতে দ্বিধায় ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনকে একটি ‘ভ্রম’ দেখিয়ে রাজি করাতে সক্ষম হন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝাতে সক্ষম হন যে, যুদ্ধটি হবে খুব দ্রুত ও সংক্ষিপ্ত, আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানি সরকারের পতন হবে।
শেখ হামাদ বলেন, এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ‘জোরপূর্বক আঞ্চলিক জোট’ এবং ‘গ্রেটার ইসরায়েলের’ ধারণা প্রচার করছেন।
ইসরায়েলের ডানপন্থিদের এই পরিকল্পনায় প্রতিবেশী আরব ভূখণ্ড পর্যন্ত দেশের সীমানা সম্প্রসারণের চিন্তা রয়েছে।