Image description

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এপিক সিটি নামে একটি মুসলিম আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। হান্ট এবং কলিন কাউন্টিতে ৪০২ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হবে এই আবাসন। এটি নির্মিত হলে এখানে এক হাজারের বেশি আবাসিক প্লট, একটি ধর্মভিত্তিক কে-১২ স্কুল, বাণিজ্যিক ও খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র এবং একটি মসজিদ থাকবে।

 

এটি কোনো নতুন শহর নয় এবং এর নিজস্ব কোনো সরকার থাকবে না। এটি টেক্সাস রাজ্যের আইনের অধীনেই থাকবে। পরিকল্পিত এই মুসলিম আবাসিক এলাকাটি ‘যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামের কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগের ফেয়ার হাউজিং অ্যান্ড ইকুয়াল অপরচুনিটি অফিস এই পরিকল্পিত আবাসন নিয়ে একটি তদন্ত শুরু করে। এর উদ্দেশ্য ছিল, এপিক সিটির পরিকল্পনা ফেয়ার হাউজিং অ্যাক্ট লঙ্ঘন করেছে কিনা তা নির্ধারণ করা।

প্রকল্পটি এমন কোনো বৈষম্যমূলক আর্থিক শর্ত ব্যবহার করেছে কিনা, যার মাধ্যমে প্লটের মালিকদের মসজিদ এবং ইসলামিক শিক্ষা কেন্দ্রগুলিতে ভর্তুকি দিতে বাধ্য করা হয় কি না তাও পর্যবেক্ষণ করা হয়।

 

টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এবং অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন, এই প্রকল্পটিকে শরিয়া আইন প্রয়োগের একটি সম্ভাব্য ক্ষেত্র মনে করে বারবার এটি বন্ধ করার চেষ্টা করে আসছেন। এর বিরুদ্ধে প্যাক্সটন একাধিক মামলাও দায়ের করেছেন।

গত সপ্তাহে, ট্র্যাভিস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট জজ অ্যামি ক্লার্ক মিচাম রায় দিয়েছেন যে, টেক্সাস ওয়ার্কফোর্স কমিশনকে অবশ্যই একটি মীমাংসা চুক্তি মেনে চলতে হবে এবং এপিক সিটির ন্যায্য আবাসন সংক্রান্ত তদন্ত থেকে সরে আসতে হবে। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গভর্নর।

তবে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর-টেক্সাস) টেক্সাস শাখা এই প্রকল্পকে সমর্থন দিয়েছে। তারা বলছে, ইসলাম বিদ্বেষ থেকেই এপিক সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি বলে অভিহিত করেছে তারা।

এক বিবৃতিতে সিএআইআর-টেক্সাস বলেছে, ‘এক বছরেরও বেশি সময় ধরে, টেক্সাসের নেতারা রাজ্যের মুসলিমদের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, পরিবারকেন্দ্রিক কমিউনিটি গড়ে তোলার সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার এক ধর্মান্ধ প্রচেষ্টা চালাতে তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।’

এতে বলা হয়, ‘টেক্সাস রাজ্যসহ সকলের জন্য আইন সমানভাবে প্রযোজ্য—এই বিষয়টি স্বীকার করে নেওয়ায় আমরা আদালতকে সাধুবাদ জানাই।’

এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হলেন ইয়াসির কাধি। তিনি দ্য ইসলামিক সেমিনারি অব আমেরিকার ডিন। তিনি বলেন, এপিক সেন্টার হবে হাজার হাজার মুসলমানের একটি আদর্শ কমিউনিটি।

সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট