পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রামে বিজেপির নির্বাচনী জনসভা শেষে রাস্তার ধারের একটি দোকানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ১০ টাকায় ঝালমুড়ি কিনে খাওয়াকে নাটক মনে করছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলছেন, এটি পরিকল্পিত এবং সাজানো।
সোমবার (২০ এপ্রিল) নির্বাচনী সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ওনার পকেটে কি কখনো ১০ টাকা থাকে? সবটাই পরিকল্পনা করে করা। আগে ‘চাওয়ালা’ বলা হতো, এখন নতুন করে ঝালমুড়ি খাওয়ার নাটক হচ্ছে।
খাবারের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, “কাল দেখলেন না আত্মপ্রচার করলো। বলুন তো, ওনার পকেটে কোনোদিন ১০ টাকা থাকে? ওই টাকা প্ল্যান করে নিয়ে এসেছিল।
বিজেপির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “যার নিরামিষ খাওয়ার ইচ্ছা, সে নিরামিষ খাবে। আমি তো লিট্টিও খাই, ছাতুও খাই, আবার ধোকলাও খাই। আমরা যদি সবার খাবার খেতে পারি, তাহলে মাছ-মাংস-ডিম বন্ধ করবেন কেন? আমরা কারও খাবারে হস্তক্ষেপ করি না, আপনারা কেন করেন?”
রোববার (১৯ এপ্রিল) পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর ও ঘাটালে একাধিক সভা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ঝাড়গ্রামের সভা শেষে হেলিপ্যাডের পথে যাওয়ার সময়ই তিনি একটি ঝালমুড়ির দোকানে থামেন। দোকানির সঙ্গে কথা বলে নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে ঝালমুড়ি কেনেন। ঝালমুড়ি তৈরির সময় পেঁয়াজ দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে মোদী রসিকতা করে বলেন, “মানুষের ভেজা ছাড়া আমি সবই খাই।” এরপর তিনি সবার সামনে ঝালমুড়ি খেতে শুরু করলে কৌতূহলী জনতা ভিড় জমান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পুরো ঘটনাটি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি প্রচেষ্টা। পাশাপাশি, বাংলায় আমিষ খাবার বন্ধ হবে—এই ধরনের আশঙ্কা দূর করার বার্তাও থাকতে পারে।