Image description

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের নতুন করে মুখোমুখি সংঘাতের মধ্যেও পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শান্তি সংলাপের আশা বাঁচিয়ে রেখেছেন ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তবে যেকোনো সময় পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তা সত্ত্বেও ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নিতেও প্রস্তুত তারা। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার শান্তি সংলাপের জন্য এরই মধ্যে ইসলামাবাদে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে হরমুজ প্রণালিতে তিনি অব্যাহত অবরোধ বজায় রাখা নিয়ে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়েছে বলে বিভিন্ন মিডিয়ার খবরে বলা হচ্ছে। এরই মধ্যে ইরানি একটি জাহাজকে নিজেদের হেফাজতে নেয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

জবাবে ইরান ইসলামাবাদ সংলাপে বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে সেখানকার কর্মকর্তারা জানিয়ে দিয়েছেন। তার মধ্যে মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের মন্তব্য আশা জিইয়ে রেখেছে। তিনি বলেছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নিতে প্রস্তুত ইরান। অর্থাৎ, ইরানের স্বার্থে হামলা হলে তারা তার প্রতিশোধ নেবে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ বাকের গালিবাফের বক্তব্য উদ্ধৃত করে। তিনি বলেন, আমরা শত্রুর ওপর ভরসা করি না। যেকোনো মুহূর্তে তারা যুদ্ধ বাড়িয়ে দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, আমরা আলোচনা করছি। কিন্তু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও প্রস্তুত আছি। অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় তেহরানের অবস্থান পুরোপুরি জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল। ইসলামাবাদে সম্ভাব্য আলোচনায় ইরান অংশ নেবে কি না- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ইরান ‘জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়’ এবং নিরাপত্তা ও অগ্রাধিকার রক্ষায় যা প্রয়োজন তাই করবে। তিনি সম্ভাব্য আলোচনাকে ইরানের বৃহত্তর সংগ্রামের অংশ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, আলোচনা আসলে যুদ্ধক্ষেত্রেরই সম্প্রসারণ। আমরা বর্তমান আলোচনাকে যুদ্ধক্ষেত্রের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখি এবং এর বাইরের কিছু দেখি না। তিনি বলেন আরও বলেন, যদি এতে যুদ্ধক্ষেত্রের অর্জন ধরে রাখার মতো ফল আসে, তাহলে আলোচনাও আমাদের জন্য একটি সুযোগ। কিন্তু যদি আমেরিকানরা এটিকে তাদের দাদাগিরির ভিত্তিতে অতিরিক্ত দাবি চাপানোর জায়গায় পরিণত করতে চায়, তাহলে নয়।’

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, মস্কোতে ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি জানিয়েছেন, নতুন আইনি ব্যবস্থার আওতায় ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। রাশিয়ার ভেদোমোস্তি পত্রিকার বরাতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল শাসন পরিবর্তন। কিন্তু বাস্তবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র আগের চেয়ে আরও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। জালালি বলেন, ইরান নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে জাহাজ চলাচল করতে পারে।

ইরান কখনোই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা। রাষ্ট্রীয় প্রেস টিভির বরাতে তিনি বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ইরানের সার্বভৌমত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইব্রাহিম আজিজি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড করপসের (আইআরজিসি) সাবেক কমান্ডার এবং পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির চেয়ারম্যান। রোববার তেহরানে বিবিসির এক প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন। প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে কি না- এ প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন ‘কখনোই না। এটি আমাদের অবিচ্ছেদ্য অধিকার। প্রণালিতে কোন জাহাজ চলাচল করবে, সেই অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্ত ইরানই নেবে।’ তিনি আরও জানান, এই নীতিকে আইনে রূপ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সংবিধানের ১১০ নম্বর অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে আমরা পার্লামেন্টে একটি বিল আনছি। বিলটি পরিবেশ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে। এই আইন সশস্ত্র বাহিনী বাস্তবায়ন করবে।