ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। ইরানের এক সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তা দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, এখন থেকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হলে আইআরজিসির অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।
অন্যদিকে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের অপর এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী জাহাজসহ সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য প্রণালিটি উন্মুক্ত থাকলেও, কোনো সামরিক জাহাজকে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এর আগে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলা থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শুক্রবার সামাজিক যোগযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
আরাঘচি বলেন, লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ পুরোপুরি খোলা থাকবে। যুদ্ধবিরতির বাকি দিনগুলোতে এই আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ কোনো বাধা ছাড়াই চলাচল করতে পারবে।
অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও প্রস্তুত থাকলেও ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ এখনই উঠছে না। ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত এই অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে আমাদের লেনদেন ১০০ ভাগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই নৌ অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে।
আলজাজিরার প্রতিবেদক অ্যালান ফিশার এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা কখনোই খুব বেশি ছিল না। কারণ, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে, এটি ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখার একটি কার্যকর উপায়।
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে এখনও কিছু অমীমাংসিত ইস্যু রয়ে গেছে। তবে তার মূল লক্ষ্য হলো ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।