Image description

ইরান যুদ্ধে আমেরিকার সামরিক দুর্বলতা প্রকাশ্যে এনেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। তার মাঝেই সামনে এলো নতুন খবর। অত্যন্ত দ্রুত গতি এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ডার্ক ইগল’ এখন মোতায়েনের অপেক্ষায়। সম্প্রতি রকেট ল্যাব নামক প্রতিষ্ঠানের সফল পরীক্ষা এবং পেন্টাগনের সাথে নতুন চুক্তির পর এই প্রকল্পের অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। বিশেষ করে শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণেরও বেশি গতিতে ছুটতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মুহূর্তের মধ্যে আঘাত হানতে সক্ষম হবে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ডার্ক ইগল কেবল দ্রুতগামী নয় বরং এটি অত্যন্ত কৌশলী। প্রথাগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথ অনুসরণ করে চললেও এই হাইপারসোনিক যানটি বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে চলাচলের সময় নিজের দিক পরিবর্তন করতে পারে। এর ফলে বর্তমানের যেকোনো অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে একে শনাক্ত করা বা ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। রকেট ল্যাবের ‘হেইস্ট’ প্রোগ্রামের আওতায় ইতিমধ্যে সাতটি সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, যা মার্কিন সেনাবাহিনীর দীর্ঘপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পথকে আরও সুগম করেছে।

পেন্টাগনের তথ্যমতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ৩৫শ' কিলোমিটারেরও বেশি। কৌশলগতভাবে এর গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ এটি গুয়াম থেকে উড্ডয়ন করে সরাসরি বেইজিং কিংবা পশ্চিম ইউরোপের কোনো ঘাঁটি থেকে মস্কোর লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হবে। একটি একক ‘ডার্ক ইগল’ ব্যাটারিতে চারটি ট্রাক-মাউন্টেড লঞ্চার থাকবে, যা থেকে মোট আটটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা যাবে।

রকেট ল্যাবের সাথে স্বাক্ষরিত নতুন ১৯০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তির আওতায় আগামী চার বছরে আরও ২০টি পরীক্ষা চালানো হবে। এই পরীক্ষার মূল লক্ষ্য হলো ক্ষেপণাস্ত্রের গতি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার নিখুঁত কার্যকারিতা নিশ্চিত করা। বর্তমানে এই প্রকল্পের সাথে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের শেষের দিকে ‘ডার্ক ইগল’ আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন সেনাবাহিনীর অস্ত্রাগারে যুক্ত হবে।

শীর্ষনিউজ