পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। তার আগেই রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ও নেতাদের বাড়িতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (ইডি) তল্লাশি ঘিরে চড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল প্রার্থী ও নেতাদের বাড়ি, পাশাপাশি দলের একাধিক কার্যালয়ে তল্লাশি অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (ইডি), আয়কর দফতরসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে এক জনসভা থেকে তিনি সরাসরি কেন্দ্রের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-কে আক্রমণ করেন। মমতার অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ইডি, সিবিআই, এনআইএ ও আয়কর দফতর একযোগে তৃণমূল নেতাদের বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ে হানা দিচ্ছে। এমনকি তার নিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও তল্লাশি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিজেপিকে ‘ভীতু’ ও ‘কাপুরুষ’ বলে কটাক্ষ করে মমতা জনগণের কাছে তাদের ‘বিসর্জন’ দেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিনের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-কে উদ্দেশ্য করে তিনটি প্রশ্নও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমত, ক্ষমতায় আসার আগে বছরে দু’কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা জানতে চান তিনি। দ্বিতীয়ত, প্রত্যেক ভারতীয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন। তৃতীয়ত, বিদেশে থাকা কালো টাকা দেশে ফেরানোর প্রতিশ্রুতি কতটা সফল হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন করেন মমতা।
এর পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলা ও বাঙালি বিরোধী মনোভাবের অভিযোগও তোলেন তিনি। তার দাবি, ভিন রাজ্যে বাঙালিদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। সভা থেকে কড়া বার্তা দিয়ে মমতা বলেন, 'বাংলাকে টার্গেট করা হয়েছে, কিন্তু বাংলার মানুষ তার জবাব দেবে।' তিনি আরও দাবি করেন, আগামী দিনে বাংলাই দেশকে পথ দেখাবে এবং রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হবে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তুঙ্গে, এবং ভোটের আগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।